লিপি আবিষ্কারেরও হাজার হাজার বছর আগে থেকে শুরু হয় লেখালিখির চেষ্টা! মিলল ৪০,০০০ বছরের পুরনো নিদর্শন

 

ভিনিউজ : লেখালিখির শুরু হয় আজ থেকে প্রায় ৫,৩০০ বছর আগে। মেসোপটেমিয়ার সভ্যতায়। কিউনিফর্ম লিপি দিয়ে। প্রায় সমসাময়িক কালেই আবির্ভাব হয়েছিল মিশরের হায়ারোগ্লিফিক লিপিরও। তার আগে? গবেষকেরা বলছেন, তার আগেও সম্ভবত লেখালিখির চেষ্টা হত। কিউনিফর্ম লিপির আবির্ভাবের বহু বছর আগে থেকেই এই চেষ্টা শুরু হয়েছিল। এমন কিছু উদাহরণ মিলেছে, যা ৪০ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন।
প্রাচীন কালে কোনও লিপিই এখনকার মতো ছিল না। কিউনিফর্ম হোক, বা হায়ারোগ্লিফিক- সবই ছিল চিত্রলিপি। নির্দিষ্ট কিছু নকশা এঁকে সেই লিপি লেখা হত। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট কিছু চিহ্নের সাহায্যে মানুষ বিভিন্ন তথ্য বোঝাতে পারত। সেগুলিকে সেই অর্থে লেখালিখি বলা না গেলেও, লেখালিখি শুরুর ঠিক আগের পর্ব বা লেখালিখির চেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করা যায়। এমনটাই মনে করছেন গবেষকেরা।

দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে প্রায় ২২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে স্বাবিয়ান জুরা পর্বতশ্রেণি। কেউ কেউ একে স্বাবিয়ান আল্প্‌সও বলেন। অতীতে এই অঞ্চল থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মিলেছে। লিপি আবিষ্কারের আগে লেখালিখির চেষ্টার উদাহরণও মিলেছে এখান থেকেই। জার্মানির সারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান বেন্টজ় এবং বার্লিন জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এভা দুতকিভিৎজ় যৌথ ভাবে এই গবেষণাটি করেন। তাঁরা স্বাবিয়ান আল্প্‌স থেকে পাওয়া ২৬০টি প্রাচীন শিল্পকর্ম বিশ্লেষণ করে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে খোদাই করা শিং, হাড়, হাতির দাঁত-সহ বিভিন্ন বস্তু।

বেন্টজ় এবং দুতকিভিৎজ় এগুলি বিশ্লেষণ করে প্রায় ৩০০০ জ্যামিতিক চিহ্ন খুঁজে পান। এর মধ্যে কিছু রেখা, কিছু খাঁজ, কিছু বিন্দু আবার কিছু ‘ক্রস’ চিহ্ন রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বস্তুগুলির যা আকার, সেই তুলনায় এই নকশাগুলির অনেক বেশি ঘনত্ব ছিল। বস্তুগুলির তুলনায় তার উপরে খোদাই করা জ্যামিতিক নকশাগুলিই সেখানে মূল বিষয় হয়ে উঠেছিল।

গত সোমবার ‘পিএনএএস’ জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, এই চিহ্নগুলি লেখার আধুনিক পদ্ধতি থেকে অনেক আলাদা। তবে ‘প্রোটো-কিউনিফর্ম’ লিপির (কিউনিফর্ম লিপির ঠিক আগের পর্যায়) সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে এর মিল রয়েছে বলে দাবি গবেষকদের। বিশেষ করে প্রোটো-কিউনিফর্ম লিপির মতোই জটিল এবং তথ্যের ঘনত্ব (একসঙ্গে অনেক বেশি চিহ্ন) দেখা গিয়েছে প্রাচীন কালের এই নকশাগুলিতে। বেন্টজ়ের কথায়, “এগুলির মধ্যে খুবই মিল রয়েছে। সত্যি বলতে প্রাচীন প্রোটো-কিউনিফর্মের চেয়ে এগুলিকে আলাদা করা যায় না। আমাদের কাছে এটি সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়। কারণ, এই চিহ্নগুলির সঙ্গে লেখালিখি শুরুর প্রাথমিক পর্বের এতটা সামঞ্জস্য থাকবে, তা আমরা ভাবিইনি।”

-আনন্দবাজার ডট কম

পূর্বের খবরমধ্যরাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন
পরবর্তি খবরঅবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো উঠল সারা দেশ
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!