লকডাউনেও বেপরোয়া গতিতে চলছে বালুবাহী ট্রাক

40
Social Share

কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার: লকডাউনে পন্যবাহী পরিবহন ছাড়া সকল যানবাহন বন্ধ থাকলেও বালুবাহী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইকান্দি হতে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বাগবাড়ি পর্যন্ত এবং অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা ও কুঠিবয়ড়া এলাকায় অবৈধ বালুর ঘাটগুলো চালু থাকায় সড়কে বালুর ট্রাকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব বেপরোয়া গতির বালুবাহী ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী ও অর্জূনা ইউনিয়নের যমুনা নদী হতে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে জেগে উঠা চর কেটে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। লকডাউনেও এসব অবৈধ বালুর ঘাট চালু থাকায় বালুবাহী ট্রাকগুলো ভূঞাপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। সড়কে অন্যান্য পরিবহন চলাচল না করায় বালুবাহী ট্রাকগুলো একধরনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। বালু পরিবহনের জন্য ১০ চাকার অধিকাংশ গাড়ির কোন নম্বর প্লেট নেই। নম্বর ছাড়াই এসব গাড়ি প্রতিনিয়ত সড়কে চলাচল করছে। এছাড়া বালু পরিবহনের হাইড্রোলিক ও দশ চাকার ভারী ট্রাকগুলোর অধিকাংশ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এতে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুসহ অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

ভূঞাপুর বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, সড়ক দিয়ে বেপরোয়াভাবে বালুর ট্রাক চলাচল করে। গাড়ি যখন আসে তখন ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় সড়ক। এতে সড়কে ধুলা দোকানে এসে পড়ে। ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাক চালকদের অধিকাংশ বয়স তরুন ও যুবক। তারাতো বেপরোয়া গতিতেই চালাবে। এতে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। অনেকে মারাও গেছে বালুর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।

রাসেল (১৪) গত ৬মাস ধরে বালু পরিবহনকারী হাইড্রলিক ট্রাকের চালক সে। প্রথমে এক চালকের অধীনে হেলপারি করেছে। এখন সে নিজেই এই ছোট বয়সে ট্রাকের চালক। এজন্য তাকে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়নি। রাসেল জানায়, পড়াশুনা বাদ দিয়ে বালুর ট্রাক চালাচ্ছি। গত ৬মাস ধরে ট্রাক চালাচ্ছি সড়কে। শুধু বালুই পরিবহন করি বিভিন্ন জায়গায়।

লকডাউনে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড গোলচত্ত্বরে ‘পুলিশ চেকপোস্টে’ দায়িত্ব পালন করা নারী পুলিশ সদস্য জেসমিন জানান, লকডাউনে জরুরীপন্যবাহী পরিবহন ছাড়া সকল পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় একটি বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাক প্রায়ই উপরে চলে আসছি। পরে এক সহকর্মীর সহায়তায় রক্ষা পাই।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওহাব জানান, লকডাউনে বালুবাহী ট্রাক চলাচলও গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে পড়ে। বালু না পেলে অনেকের বাড়ির কাজ বন্ধ থাকবে। সুতরাং এটা জরুরীর মধ্যে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান জানান, লকডাউনে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।