রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও স্থানীয়রা আক্রান্ত : এইচ টি ইমাম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও স্থানীয় মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

আজ শনিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স হলে ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড সাসটেইনেবল সলিউশনস’ শীর্ষক দু’দিনের আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ আয়ের একটি বড় উৎস হচ্ছে কক্সবাজার। প্রতি শুক্র ও শনিবার তিন লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করে থাকেন। এসব পর্যটকরা রোহিঙ্গাদের কারণে আক্রান্ত।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- ক্ষুদ্র এলাকায় বেশি মানুষের বসবাস। এটি কীভাবে কমানো সম্ভব তা বের করা। ভৌগোলিক অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা। স্থানীয়দের অর্থনৈতিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এর সমাধান করা। রোহিঙ্গা সমস্যা এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে, তা প্রতিরোধ করা। আরও বেশি স্বাস্থ্য ও মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বন্দরও রয়েছে। কক্সবাজার থেকেই সবচেয়ে বেশি শুটকি মাছ রপ্তানি হয়। সেখানে সর্বাধিক সংখ্যক চিংড়ি হ্যাচারিজ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে এসবও আক্রান্ত হয়েছে।

সার্বিকভাবে বলতে গেলে, রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও স্থানীয় মানুষ আক্রান্ত হয়েছে- মন্তব্য করেন এইচটি ইমাম।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী ড. সৈয়দ হামিদ আলবার।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এতে আরো বক্তব্য দেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহকারী আঞ্চলিক প্রতিনিধি আলিস্টেইর বোল্টন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান বেনাজির আহমেদ প্রমুখ।