রূপপুরে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের বিষয়টি আইএইএ’কে অবহিত করলেন বিজ্ঞানমন্ত্রী

51
Social Share

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লী পাত্র স্থাপন শুরু করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সির (আইএইএ) ৬৫ তম সাধারণ সম্মেলনে বিষয়টি অবহিত করলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। সারাবিশ্বে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে ওয়াচ ডগের ভূমিকা পালন করে জাতিসংঘ সংস্থা আইএইএ।

আইএইএ’র ৬৫তম সাধারণ সম্মেলন শুরু হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এই সম্মেলন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

স্থানীয় সময় সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে রূপপুরে প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল ইনস্টলেশন শুরু করেছে প্রকৌশলীরা। আশা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে এখানকার দ্বিতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বাংলাদেশ আইএইএ’র প্রযুক্তিগত সব মাইলফলক অনুসরণ করেই কাজ করছে। তিনি জানান, নিরাপত্তার দিকে দৃঢ়ভাবে দৃষ্টি রেখেই বাংলাদেশ পরমাণু অবকাঠামো থেকে শুরু করে এই সংক্রান্ত সার্বিক কর্মসম্পাদন করে যাচ্ছে। এছাড়া, ২০২৩ সাল নাগাদ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রেখে প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডের (জ্বালানি ভরা সংক্রান্ত) আগেই বাংলাদেশ আইএইএ’র গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মিশনের সম্মুখীন হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান বিজ্ঞান মন্ত্রী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান আরও বলেন, ‘সরকারের স্বচ্ছ পরমাণু নীতি, জাতীয় অংশীজনদের অক্লান্ত শ্রম, দ্বিপক্ষীয় অংশীজনের সহায়তা এবং সর্বোপরি আইএইএ’র অকুণ্ঠ সমর্থনে বাংলাদেশ সফলভাবে পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা এই খাতে নবাগত যে কোনো দেশের জন্য অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তিকে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে সফল প্রযুক্তি হিসেবেই বিবেচনা করে।

পাঁচ দিনব্যাপী এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন। রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শৌকত আকবর, রূপপুর প্রকল্পের অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অলোক চক্রবর্তী এই দলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। করোনার এক বছর বিরতির পর অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে সংস্থাটির ২০০ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতেই বিজ্ঞানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএইএ’র সদস্যদেশগুলোতে কোভিড-১৯ নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেন। করোনার মধ্যেও এই সংস্থা জটিলতা সামলে সব কাজ অব্যাহত রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।