রাহিতুল ‘র বইয়ের পাতায় ডিজিটাল বাংলাদেশের গল্পগুলো

70
রাহিতুল
Social Share

লেখক রাহিতুল ইসলামের কথা -তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রটাই তার জগত। লেখালেখারি মাধ্যমে তিনি পাঠকদের জানিয়ে থাকেন এই জগতের নানান জানা-অজানা কথা, কখনো সংবাদপত্রে লিখে, কখনো বই লিখে। বলা হচ্ছে, এই সময়ের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক লেখক রাহিতুল ইসলামের কথা, যার চিন্তার সবটা জুড়েই আছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাত। ইতোমধ্যেই রাহিতুলের ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার বেশির ভাগ বই-ই লেখা তথ্যপ্রযুক্তির জগত ঘিরে।

সম্প্রতি কথা হয় রাহিতুলের সঙ্গে। তিনি এই তথ্যপ্রযুক্তির জগতে পথচলা নিয়ে বলেন, ‘আইটি সাংবাদিকতা করতে এসে দেখলাম, এই শিল্প খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে খুব একটা সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাইতো আমি এই বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করি। সাংবাদিকতার বাইরে এসে আমি এখন মৌলিক লেখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কয়েকটি বই লিখেছি, আরও কিছু লিখছি। এবারের বইগুলোর নাম- ‘তথ্যপ্রযুক্তির নায়কেরা’ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ‘কল সেন্টারের অপারাজিতা।’

নতুন বইগুলো সম্পর্কে রাহিতুল জানান, ‘দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রেখেছেন এমন ১০ জন নিয়ে লেখা হচ্ছে ‘তথ্যপ্রযুক্তির নায়কেরা’। এই দশজন ব্যক্তি হচ্ছেন তারাই, যাদের হাত ধরে আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। যারা আজকের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির হাল ধরেছিলেন, যাদের অবদানে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ডিজিটাল বংলাদেশ; তাদের গল্প দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

রাহিতুল আরও বলেন, ‘এই বইটি পড়ে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারবে কীভাবে এই খাত এতদূর এগিয়েছে, কীভাবে আমরা পেয়েছি আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ১০ জনের গল্প নিয়ে তৈরি এই বইটি হবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি ঐতিহাসিক দলিল।’

রাহিতুল ইসলামের আগের বইগুলো হচ্ছে ‘বিষণ্ন কাঁটাতার’, আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প, কেমন আছে ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া?, চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ভালোবাসার হাট বাজার, ফ্রিল্যান্সার সুমনের দিনরাত, কীভাবে গড়বেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার, হ্যালো ডাক্তার আপা ও Freelancing and A Tale of Love (আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্পের ইংলিশ অনুবাদ) ইত্যাদি।

এর মধ্যে ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’ ও ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ উপন্যাসটি অবলম্বনে একই নামে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং টেলিফিল্ম বিভিন্ন মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া ‘কেমন আছে ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া?’ হ্যালো ডাক্তার আপা ও ভালোবাসার হাট বাজার অবলম্বনেও টেলিছবি নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

লেখক রাহিতুল ইসলাম পেয়েছেন বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইটেল মোবাইল রাহিতুল ইসলামকে দিয়েছে বিশেষ সম্মাননা। সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখক হিসেবে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বইয়ের লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন রাহিতুল ইসলাম। ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’র লেখক হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৯। রাহিতুল ইসলামের আগামী দিনের লক্ষ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি কথা দেশ ও দেশের বাইরের মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

যশোর সদরে রাহিতুল ইসলামের জন্ম, সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। কাজ করছেন একটি জাতীয় দৈনিকে আর এখন তার সবটুকু সময়ই শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংবাদ সংগ্রহ ও এই ক্ষেত্রে নিত্যনতুন গল্পকে নিজের লেখনিতে তুলে ধরা।