রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলার ব্যর্থ চেষ্টা চিনের, কড়া সমালোচনা ভারতের

রাষ্ট্রপুঞ্জে‌র নিরাপত্তা পরিষদ। -ফাইল ছবি।
Social Share

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের হয়ে ফের কাশ্মীর ইস্যু তোলার চেষ্টা করায় চিনের কড়া সমালোচনা করল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতের একটা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই নাক গলানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা যায় না।’’

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের বর্ষপূর্তির দিনে পাঁচ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে বুধবার পাকিস্তানের অনুরোধ রাখতে ফের কাশ্মীর ইস্যু তোলার চেষ্টা করে চিন। তবে বাকি চার সদস্য রাষ্ট্র আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার আপত্তিতে বেজিংয়ের সেই প্রয়াস অবশ্য সফল হয়নি। এর আগেও নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের হয়ে আরও দু’বার কাশ্মীর ইস্যু তোলার চেষ্টা করেছিল চিন।

চিন যে আর আগেও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিফল চেষ্টা করেছিল, বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আক্ষরিক অর্থেই যেটা ভারতের একটা অভ্যন্তরীণ বিষয়, নিরাপত্তা পরিষদে সেটা তোলার ব্যাপারে চিনের চেষ্টা এই প্রথম নয়। এর আগেও দু’বার হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ভাবে চিনের বার বার নাক গলানোর চেষ্টা আমরা বরদাস্ত করছি না। এই চেষ্টা যে ফলপ্রসূ হচ্ছে না, এ বার তা থেকে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। যাতে আগামী দিনে এমন চেষ্টা আর না হয়।’’

রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বুধবার তাঁর একটি টুইটে বলেছেন, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য প্রায় সব দেশই মেনে নিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। ফলে, তা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের সময় ও মনোযোগ নষ্ট করতে পারে না।’’

ইসলামাবাদকে খোঁচা দিয়ে তাঁর টুইটে তিরুমূর্তি এও লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের আরও একটা চেষ্টা ব্যর্থ হল!’’

ও দিকে, ৩৭০ ধারা বিলোপের বর্ষপূর্তির দিনে চিন যে তাদের হয়ে নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যু তৃতীয় বার তোলার চেষ্টা করেছিল, তাকে ইসলামাবাদ তাদের ‘সাফল্য’ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ইসলামাবাদে তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘‘এই নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে গত এক বছরের তিনটি বৈঠকে উঠল জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু। যা ভারতের দাবির সঙ্গে মেলে না। ভারত তো এই ইস্যুকে তাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে দাবি করে!

মঙ্গলবারই জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ, পশ্চিম গুজরাতের বেশ কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে পাকিস্তানের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেটি পাক মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে বলেও ইমরান জানিয়েছেন। দিল্লিও ওই নতুন পাক মানচিত্রকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।