রামায়ণ-মহাভারতকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করল সৌদি আরব

45
Social Share

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কারণে গোটা বিশ্বেই প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা হয়। তারই অংশ হিসেবে এবার সৌদি আরবের (Saudi Arabia) স্কুলের বইয়ের পাঠ্যক্রমে জায়গা করে নিল ভারতীয় পূরাণের দুই মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত (Ramayana and Mahabharata)। ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সেদেশের যুবসমাজকে অবিহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্তের ফলে দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

তবে শুধু রামায়ণ-মহাভারত নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, যোগব্যায়াম ও আয়ুর্বেদ মতো বিষয়গুলিও পড়ানো হবে ছাত্রছাত্রীদের। ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের স্কুলগুলিতে ইংরেজি শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের স্কুলের বইয়ে দেখা যাচ্ছে, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, মহাভারত এবং রামায়ণের মতো ধর্মীয় বিষয়গুলি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি নিজের ছেলের স্কুলের বইয়ের ছবি পোষ্ট করে এক নেটিজেন লিখেছেন, সৌদি আরবে বসে ছেলেকে এই সব বিষয় পড়াতে পেরে বেশ আনন্দই পাচ্ছেন তিনি।

সৌদি আরবের এক শিক্ষাবিদ বলেছেন, এরফলে ভবিষ্যত প্রজন্ম সর্বধর্ম সহিষ্ণু হয়ে উঠবে। পাশাপাশি, পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে পড়ুয়ারা বৃহত্তর জ্ঞান লাভ করতে পারবে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সৌদি আরবের অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানি থেকে আসা অর্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন এনে তেলের উপর দেশের অর্থনীতির এই নির্ভরতা কমাতে চাইছে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান সরকার।

উল্লেখ্য, ইসলাম সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। আইন অনুযায়ী, সৌদির সকল নাগরিককে মুসলমান হতে হবে। ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রকাশ্য উপাসনা নিষিদ্ধ। এমনকি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেতে হলে কোন অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়। ইসলামী আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকারের জন্য বহির্বিশ্বে বরাবরই সমালোচিত হয় দেশটি।

দেশটিতে সংখ্যালঘুদের তাঁদের নিজেদের ধর্ম পালনের অধিকার নেই। অমুসলিম প্রসারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ইসলাম থেকে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিতদের মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। তবে আগামীদিনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ টানতেই এই সিদ্ধান্ত বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।