রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ৩০ আসনে ভোট

33
Social Share

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট। এই দফায় আগামীকাল ১ এপিল রাজ্যটির বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা- এই চার জেলার ৩০ টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।

এই দফায় ১৭১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১৫২ জন, নারী প্রার্থী ১৯ জন। মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৫,৯৪,৫৪৯ জন। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ৩০ টি আসনের জন্য মোট বুথের সংখ্যা থাকছে ১০,৬২০ টি। কমিশনের মতে প্রতিটি বুথই স্পর্শকাতর। নিরাপত্তার জন্য মোট ৬৫১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে।  থাকবে মোট ৩৮ জন পর্যবেক্ষক, কুইক রেসপন্স টিম, নজরদারি চলবে ড্রোনের সাহায্যেও।

এই দফায় গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলির মধ্যে রয়েছে নন্দীগ্রাম, ডেবরা, খড়গপুর সদর, পাঁশকুড়া পশ্চিম, সবং, কেশপুর প্রমুখ।

যদিও সকলের নজর থাকবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের দিকে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটিতে ৮ বার জয় পেয়েছিল বামেরা, তৃণমূলের জয় শেষ তিনবার। এই কেন্দ্র থেকে এবার ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার লক্ষ্য এবারেও এই কেন্দ্র থেকে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। তবে এবারের লড়াই সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এই কেন্দ্রে তার প্রধান প্রতিপক্ষ কয়েক মাস আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ফলে মমতা কিংবা শুভেন্দু-উভয়ের কাছে লড়াইটা ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। কারণ ২০০৭ সালে এই নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার আন্দোলনের তাকে রাজ্য রাজনীতিতে একেবারে সামনের সারিতে নিয়ে আসে। আর যার ফল ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ও রাজ্যে তৃণমূলের সরকার গঠন। এই কেন্দ্র থেকেই তৃতীয় শক্তি হিসাবে কিছুটা লড়াই দিতে পারে সংযুক্ত মোর্চার তরফে সিপিআইএম সমর্থিত প্রার্থী নবাগত মীনাক্ষি মুখার্জি।

নন্দীগ্রামে যে বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও প্রতিপক্ষকে ছাড়বেন না তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। গত কয়েকদিন ধরেই ভাঙা পায়ে হুইল চেয়ারে করে প্রচারণা সারছেন তিনি।

অন্যদিকে ডেবরাতে লড়াই হবে দুই সাবেক আইপিএস কর্মকর্তার মধ্যে। একজন তৃণমূলের প্রার্থী হুমায়ুন কবীর, তার প্রতিপক্ষ বিজেপির ভারতী ঘোষ। খড়গপুর সদর কেন্দ্রে বিজেপির তারকা প্রার্থী হিরণ চ্যাটার্জি, তার প্রতিপক্ষ তৃণমূলের প্রদীপ সরকার। সবং কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন সাংসদ মানস ভুঁইয়া, বিজেপির প্রার্থী অমূল্য মাইতি। কেশপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক শিউলি সাহা। লড়াইয়ে আছেন সিপিআইএম প্রার্থী রামেশ্বর দলুই ও বিজেপির প্রীতিশ রঞ্জন কুয়ার। পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ফিরোজা বিবি, বিজেপির পার্থী শিন্টু সেনাপতি, সিপিআইএম’এর প্রার্থী চিত্তরঞ্জন দাস ঠাকুর। এই ফিরোজা বিবিই তৃণমূলের টিকিটে নন্দীগ্রামে দুইবার জয় পেয়েছিলেন। ময়না কেন্দ্রে প্রধান লড়াই হবে তৃণমূলের প্রার্থী সংগ্রাম কুমার দলুই ও বিজেপি প্রার্থী সাবেক ক্রিকেটার অশোক দিন্দার মধ্যে, সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী মানিক ভৌমিক। চন্ডীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, বিজেপির প্রার্থী পুলককান্তি গুড়িয়া, জোটের প্রার্থী সিপিআইএম’এর আশিস গুছাইত।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ১ এপ্রিল আসামেও দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যটির ৩৯ টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন।  মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩৪৫ জন।

গত ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রথম দফার ভোট গহণ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি আসনে মোট আট দফায় ভোট নেওয়া হবে অন্যদিকে ১২৬ আসন বিশিষ্ট আসামে তিন দফায় ভোট নেওয়া হবে। গণনা আগামী ২ মে।