রাজধানীর বায়ু দূষণরোধে হাইকোর্টের ৯ দফা নির্দেশনা

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হয়ে রাজধানীর বাতাস দূষিত হওয়ার কারণ কি এবং তা রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব পরিবহন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোয়া ছড়াচ্ছে সেসব যানবাহন জব্দ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে মোট ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে দফা সুপারিশ সম্বলিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর এ আদেশ দেন আদালত।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় গতকাল আদেশ দেন আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গতবছর ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৯ দফা নির্দেশনা দেন আদালত।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার দরকার। সে জন্য আদালতের ১২ দফা নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত ৯টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, নির্মল বায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের ৩শ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এই টাকা পরিবেশ অধিদপ্তর কিভাবে ব্যয় করেছেন, পরিবেশ উন্নয়নে কি ধরনের ভূমিকা রেখেছে, এতে জনগণ কি ধরনের সুফল পাচ্ছে অর্থাৎ পুরো প্রকল্পের টাকা কিভাবে ব্যয় হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।

হাইকোর্টের দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনায় সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। যেসব পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’র মেয়াদ শেষ হয়েছে সেসব পরিবহন চলাচলে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া চলমান টায়ার পোড়ানো ও ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকার পাশের চার জেলায় (গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ) যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনও বন্ধ করা হয়নি তা বন্ধ করে দুইমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় বালি, ময়লা, বর্জ্য বহনের সময় বহনকারী ট্রাকসহ সংশ্লিষ্ট যান ঢেকে চলাচল করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দোকান বা মার্কেটের ময়লা যাতে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ এলাকায় বালি, সিমেন্ট, মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের যেসব ধুলাবালি প্রবণ এলাকায় এখনও পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে বলা হয়েছে।