রমজানের বাজার : বেগুন-লেবু-শসার দামে আগুন, বিপাকে ক্রেতারা

 

 

ভিনিউজ : রোজা শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে ফিরেছে পুরোনো চিত্র। বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। রোজার গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে বেগুন, লেবু, শসা, কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা দুদিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। গাঁজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি করে। এছাড়া রমজানে প্রতিদিনের ইফতারের অনুষঙ্গ খেজুর। এর বাজার বেশ চড়া হয়ে উঠছে। আমদানি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ দামে ভোক্তাকে খেজুর কিনতে হচ্ছে। খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪০০ থেকে ২০০০ টাকা। মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি, আজোয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা কেজিতে।

তারা আরও জানায়, সপ্তাহখানেক আগে বেগুনের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা বর্তমানে যা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। সেই হিসাবে এক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে সবজিটির দর। এছাড়া কেজিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। পেঁপের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই দুটি সবজি অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে। এদিকে চাম্পা কলা বিক্রি হচ্ছে ডজন প্রতি ৭০ টাকা করে। তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৯০ টাকা করে। সবকিছুর দাম বাড়লেও আদা ও পেঁয়াজের বাজারদর স্থিতিশীল রয়েছে। আদা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫০ টাকা করে।

 

কাঁচামরিচ বিক্রেতা সাব্বির বলেন, ‘আমদানি বেশি হলে দাম কম থাকে আর আমদানি কম থাকলে দাম বেড়ে যায়। তবে আজ আমদানি ভালো হয়েছে, তাই দাম গতকালের থেকে কিছুটা কমেছে।’

আদা ও পেঁয়াজ বিক্রেতা সাকিবুল হক বলেন, ‘আমদানি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো হয়েছে, তাই বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে।’

গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দামে কোনো স্বস্তি আসেনি। বর্তমানে মাঝারি সাইজের এক হালি লেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা সজিব আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও নাগালের মধ্যে থাকা পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বাজারে কোনো কার্যকর তদারকি ও নজরদারি নেই। যার কারণে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা অধিকার ও ভ্রাম্যমাণ মোবাইলকোর্ট বসিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।’

 

ক্রেতা তসিফ হাসান বলেন, ‘প্রথম রোজায় শসা, লেবু ও বেগুন সব সময়ের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের উচিত এদিকে নজর দেওয়া।’

নাজমুস সাকিব বলেন, ‘বাজারে খেজুরের এতা দাম, কিভাবে কিনে খাবো। আমাদের সাধারণ মানুষের এই দাম নাগালের বাহিরে।’

এইদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম এখনও স্বস্তিদায়ক নয়। টানা দুই-আড়াই মাস কেজিপ্রতি দাম ছিল দেড়শ টাকার সামান্য ওপরে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ দাম কিছুটা কমেছে। আজ ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা করে। পাশাপাশি সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

 

পূর্বের খবরমেয়েকে তাও দর্শনে বড় করছেন আলিয়া-রণবীর!
পরবর্তি খবরমহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন