রকেট হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, আতঙ্কে বিনিদ্র রাত কাটছে ভারতীয়দের

67
Social Share

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন সৌম্য সন্তোষ। হঠাৎই, প্রচণ্ড আওয়াজ হয় এবং ভিডিও কল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বারবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। যোগাযোগ করা হয় অ্য়াক্সেলন শহরে বসবাসকারী তাদের পরিচিতদের সঙ্গে। তখনই রকেট হামলার খবর জানতে পারে ভারতের কেরালার ইদুক্কি জেলার কৃষক কে সন্তোষ। তার স্ত্রী রকেট হামলায় মারা গেছে বলে জানায় ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সৌম্যর মতো বহু ভারতীয় নারী-পুরুষের জীবন বিপন্ন এখন ইসরায়েলে। অনেকেই নার্সিং পেশায় ইসরায়েলে থাকেন। প্রবীণদের দেখাশোনা-সহ গৃহস্থলীর নানান কাজকর্ম করেন তারা। এর মধ্যে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তাদের এখন আতঙ্কে দিন কাটছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসছে রকেট, এয়ার সাইরেনে কান ঝালাপালা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। প্রাণভয়ে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন ভারতীয়রা।

৩৩ বছরের মারিয়া জোসেফ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শুক্রবার টেলিফোনে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গত চারদিন ধরে তিনি রাতে চোখের পাতাকে করতে পারেননি। গাজা থেকে ৩৮ কিমি দূরে ইসরায়েলের আশদদ শহরে থাকেন তিনি। বলেছেন, গতকাল রাতে রকেটবৃষ্টি হচ্ছিল আকাশে। আমাদের আবাসন রীতিমতো কাঁপছিল। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবাই একে অপরের খোঁজ নিচ্ছিলাম। প্রাণে বাঁচতে চাই আমরা। কেরালার অনেক নার্স গাজার কাছে এই এলাকায় কাজ করেন।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলে ভারতীয় দূতাবাসের ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, ১৪ হাজার ভারতীয় এই দেশে কর্মরত। তার মধ্যে ১৩,২০০ জন নার্স-গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভাল বেতন এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা না থাকায় ইসরায়েলে কাজ করতে যান অনেক ভারতীয়। রকেট হামলায় নিহত সৌম্যও ৮০ বছরের এক বৃদ্ধার দেখাশোনা করতেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।