যৌতুকের দাবীতে নববধুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

80
যৌতুকের
Social Share

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ বিয়ের মেহেদীর রং না মুছতেই যৌতুকের জন্য শশুর বাড়ীর লোকজনের নির্যাতনে লাশ হতে হলো সুমাইয়া খাতুন (১৮) নামের এক নববধুকে। ঐ গৃহবধুর শশুরবাড়ীর লোকজনের দাবী সে নিজে আত্মহত্যা করেছে। তবে সুমাইয়ার পিতার দাবী তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার শশুর বাড়ী থেকে আগুনে ঝলসানো ঐ গৃহবধুকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান
নিহত সুমাইয়া খাতুন দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার আয়েম আলীর মেয়ে এবং মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার সাদিকুল ইসলামের স্ত্রী।
আমলা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই কামরুজ্জামান জানান, “সকালে ঐ গৃহবধু স্বামীর বাড়ীর নিজ কক্ষ্যে গায়ে ডিজেল তেল দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
কামরুজ্জামান আরো জানান, “প্রতিবেশিদের ভাষ্য মতে গত ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিক ভাবেই মিরপুর উপজেলার পারমিটন এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাদিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলোহের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। মঙ্গলবার সকালে গায়ে আগুন দিলে সুমাইয়ার মামা জালাল হোসেন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকালে সে মারা যায়।”
সুমাইয়ার পিতা আয়েম আলী অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের তিন পরে জামাই জানায় টাকার খুব দরকার। ব্যবসা করার জন্য টাকা লাগবে। এজন্য টাকা নিয়ে যেতে সুমাইয়াকে চাপ দেয়। কিন্তু আমি গরীব মানুষ হওয়ায় ১ লাখ টাকা সম্পূর্ণ একবারে দিতে অপরাগত প্রকাশ করি। এ নিয়ে সুমাইয়ার স্বামী তার ওপর নির্যাতন চালায়।”
তিনি আরো জানান, “কয়েকদিন আগেও টাকা নিতে পাঠিয়েছিলো সুমাইয়াকে। চারদিন থেকে বাড়িতে থেকে কিছু টাকা নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসে। স্বামীর বাড়িতে আসার পর সম্পন্ন টাকা না দেওয়ার কারণে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে গালমন্দ ও মারধর করে। যৌতুকের এক লাখ টাকা না পেয়ে আমার মেয়েকে ওরা পরিকল্পিত ভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।”
এ ব্যপারে জানতে চাইলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মস্তফা জানান, “ঘটনার পরেই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেই সাথে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ওসি আরো জানায়, “নিহতের পরিবারের লোকজন থানায় এসেছেন। এ বিষয়ে