যে কারণে ক্যু ও সু চিকে গ্রেপ্তারের নিন্দায় নেই ঢাকা

15
Social Share

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের (ক্যু) নিন্দা জানায়নি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মিয়ানমারে গ্রেপ্তার স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির মুক্তির দাবি করেনি। বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশ যেখানে মিয়ানমার পরিস্থিতির নিন্দা এবং সু চির মুক্তি দাবি করেছে, সেখানে বাংলাদেশ কেন তা করছে না—এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা (মিয়ানমার) আমাদের প্রতিবেশী। অন্যরা নিন্দা জানিয়েই শেষ। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হলো। তারা (পশ্চিমারা) একটু নিন্দা জানিয়েই শেষ। আমাদের ঘাড়ে এসে চাপল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের ইতিহাসে সামরিক সরকার বহু বছর ধরে আছে। আমরা বলেছি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা এই নীতি অনুসরণ করি। অন্য দেশেও গণতন্ত্র বিকশিত হোক, এটি আমরা চাই। আমরা বেশ জোরালোভাবে বলেছি, তারা যেন মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সমুন্নত রাখে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশ চায়, মিয়ানমারে যেন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যেন চলমান থাকে, সে প্রত্যাশাও জানিয়েছে বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিজের স্বার্থে কথা বলেছে। বাংলাদেশ চায় না, এখানে মধ্যপ্রাচ্যের মতো কোনো একটা অজুহাতে বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সু চির মুক্তি দাবি জানায়নি বাংলাদেশ। রোহিঙ্গারা হয়তো চাইবে, সু চি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে এসে যেন তাদের পরিস্থিতি দেখেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে রোহিঙ্গারা বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটি কেউ মেনে নিতে পারবে না।

বৈঠক নিয়ে সাড়া নেই

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ের (ওয়ার্কিং গ্রুপের) বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়েও গতকাল বিকেল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে কোনো বার্তা আসেনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। ইতিহাস বলে যে মিয়ানমারে সামরিক সরকারের আমলে ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছে। তাহলে এবার কেন নয়? এটি মিয়ানমারের জন্য একটি সুযোগ। মিয়ানমারের এটি কাজে লাগানো উচিত। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মিয়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেননি। কারণ যোগাযোগের সব মাধ্যমই বিচ্ছিন্ন আছে।