ভিনিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ছাত্রবিক্ষোভকে ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের পরিবার এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছে। শুক্রবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে একাধিক আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের স্বজনেরা নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিচার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টরের কন্যা আবেগঘন বক্তব্যে জানান, যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থলের সামনে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বাবাকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বেধড়ক মারধর করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার তীব্রতায় কয়েক ঘণ্টা তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সহকর্মীরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরিবারের দাবি, রক্তাক্ত অবস্থায় বাবাকে দেখে তাঁরা চরম মানসিক আঘাত পান।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা আগে দীর্ঘদিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে দিল্লি পুলিশে যোগ দেন। প্রতিদিন দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফিরে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানাতেন যে, আন্দোলনটি আর কেবল ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সেখানে সমাজবিরোধী উপাদানের উপস্থিতিও বাড়ছে। এসব কথা শুনে পরিবার আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল।
আহত ওই সাব-ইনস্পেক্টরের কন্যার অভিযোগ, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বাবাকে দোষারোপ করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এতে পরিবার আরও মর্মাহত হয়। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হলেও তাঁদের ওপর হামলার বিচার নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এক সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসিপি) স্ত্রী জানান, সংঘর্ষের দিন রাতে তাঁর স্বামী গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনি এবং তাঁদের দুই বছরের সন্তান ভীত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের পরিবারের সদস্যদেরও এমন ঘটনার মানসিক অভিঘাত দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) স্ত্রী জানান, ঘটনার দিন সকালে তাঁর স্বামী ফোনে জানিয়েছিলেন যে যন্তর মন্তরের সামনে বিপুল জনসমাগম হয়েছে। পরে সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা ইট, পাথর, ফুলের টবসহ হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। অনেকের হেলমেট ভেঙে যায় এবং হেলমেট না থাকলে আরও বড় প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।
পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে সংসদে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরের ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ এবং ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগে আদালতে পৃথক মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সদস্যদের পরিবার দাবি করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের স্বজনেরা সংগঠিত হামলার শিকার হয়েছেন এবং এই ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।




