যথাযোগ্য মর্যাদায় জেল হত্যা দিবস পালিত

Social Share

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী ও জাতীয় চারনেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করেছে দেশবাসী।
তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলহত্যা দিবসে সীমিত পরিসরে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত ছিলেন।
পচাঁত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংক জনক অধ্যায় এই জাতীয় চারনেতা হত্যার দিনটি। পনেরই আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে এই দিনে কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয় ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে শোকাবহ এই দিবসটি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে-সাথে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শুরু হয়।
বিকাল সাড়ে ৩ টায় জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে ওবায়দুল কাদের দলের কেন্দ্রীয়নেতাদের সাথে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন খসরু ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এডভোকেট আফজাল হোসেন ও মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বিজ্ঞন ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিননেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় চারনেতার মধ্যে এ এইচ এম কামরুজ্জানকে রাজশাহীর কাদিরগঞ্জে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সেখানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল।
অনুষ্ঠানে জাতীয় চারনেতার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে এএইচএম এহছানুজ্জামান, অনুষ্ঠানে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে রেজাউল করিম, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাদ যোহর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাতে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর শাহাদাতবরণকারী জাতীয় চারনেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহীউদ্দিন কাশেম।
পচাঁত্তর সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।