মৌসুমী সমর্থকদের এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না

তার সমর্থকদের এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী , চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এদের অধিকাংশই সদস্য ছিল তাদের সদস্যপদ স্থগিত করে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। তাই বলে তারা এফডিসিতে ঢুকতে পারবে না এমনটা মানতে পারছেন না তিনি।

বুধবার রাতে এফডিসিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। কথা বলার সময় মৌসুমীকে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।

মৌসুমী বলেন, ‘১৮০ থেকে ৮২ জনের মতো শিল্পীর সদস্যপদ স্থগিত করে সহযোগী সদস্য বানিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা তো স্বাভাবিক না। এরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঙ্গনে কাজ করছে অথচ তাদের বাদ দেওয়া হলো, আর অনেককে যারা আমরা চিনি না, তাদেরকে সদস্য করা হয়েছে।’

মৌসুমী অভিযোগ করে বলেন, ‘সহযোগী সদস্য করা সেইসব শিল্পীদের এখন এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা ঢোকার চেষ্টা করছে, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমি গতকাল যখন এফডিসিতে এলাম তখন বেশ কয়েকজন শিল্পী এসে আমাকে ঘিরে ধরলো, দুইটা আড়াইটা থেকে আপনার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমার গাড়িভাড়া নেই, সেই টাকা দিয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করে এফডিসিতে ঢুকেছি।’

বিষয়টি খারাপ লেগেছে উল্লেখ করে মৌসুমী বলেন, ‘এটা আমার খারাপ লেগেছে। তারা তো সদস্য ছিল কিন্তু তাদের ঢুকতে না দেওয়ার মানেটা কী? তারা কাজ করেছে। সদস্যপদ স্থগিত করেছে সহযোগী সদস্য বানিয়েছে কিন্তু তারা ঢুকতে পারবে না কেন? আজকেও সংবাদ সম্মেলনে অনেকে বলেছেন, আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, আজকেও আমরা অনেক কষ্ট করে আসছি।’

কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, এর নেপথ্য কোনো কারণ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কারণ তো আছে। কেউ না কেউ তো চেষ্টা করছেই। আমি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। দেখা যাক কী হয়।’

নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘প্রচার প্রচারণার কাজ কম হচ্ছে। কিন্তু সেটা গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা ও সংবাদ প্রকাশের কারণে সেটা পুষিয়ে যাচ্ছে। আমি শিল্পীদের বাসায় বাসায় যেতে পারছি না কিন্তু তাদের কাছে মেসেজটা পৌঁছে দিতে পারছি না। সম্মানিত ভোটারদের কাছে যাওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু যেতে পারছি না তবে আমার বার্তা পৌঁছে  যাচ্ছে।’

মৌসুমীর কোনো নির্বাচনী ইশতিহার নেই। না থাকার পেছনে কারণ আছে বলে জানালেন এই অভিনেত্রী। বললেন, ‘আমি ইশতিহার দেই নি ইচ্ছে করেই। ইশতিহারে উল্লেখ করে সেটা যদি রাখতে না পারি তাহলে সেই ইশতিহার দিয়ে কী হবে? আমি যদি নির্বাচিত হই তারপরে কাজ করবো। আপাতত আমাদের চিন্তা ভালোভাবে নির্বাচন করা। আমি প্রতিদিন মাথাঠাণ্ডা করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি।’

নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মৌসুমী বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতা তো আছেই। সবকিছু তো মনের মতো হবে না। সেসব ভাবাচ্ছে। মনে কষ্ট পাই, মনোক্ষুণ্ণ হই, তারপরেও লড়ে যাচ্ছি। যখন মনে হয় এই কষ্টটুকু আমি কাদের জন্য করছি, এই ত্যাগটা যাদের জন্য করছি যদি এটা সফলতা পায় তাহলেই আমার শান্তি।’

মৌসুমীর মুখে শুনুন