মেধা, মনন, বুদ্ধি আর ব্যক্তিত্বে প্রখর ফেরদৌসী মজুমদার

49
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: মেধা, মনন, বুদ্ধি আর ব্যক্তিত্বে যিনি প্রখর তিনি ফেরদৌসী মজুমদার। সাম্প্রদায়িকতা আর কুসংস্কারাচ্ছন্নের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার তিনি। তার প্রাণোচ্ছ্বল স্পষ্টবাদিতা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পথ নির্দেশক। প্রচ- ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী ফেরদৌসী মজুমদারের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ জুন। স্বামী দেশখ্যাত রামেন্দু মজুমদার এবং কন্য অভিনেতী ত্রপা মজুমদার। মেধাবী এই অভিনত্রী ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী বিষয়ে এমএ, ফরাসী ভাষায় দ্বিতীয় কোর্স আলিয়াঁস ফ্রঁসেজ করেন ১৯৬৭ সালে। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। শিক্ষায়িত্রী হিসেবে আজিমপুর অগ্রণী বিদ্যালয় (১৯৬৭-১৯৬৯), গবেষণা ফেলো জওহরলার নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় নয়াদিল্লী (১৯৭১), প্রভাষিকা হিসেবে হলিক্রস কলেজ (১৯৭২), সিনিয়র শিক্ষিকা হিসেবে উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল (১৯৮১-২০০০), সহকারী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে (২০০০ থেকে ২০০৩), খ-কালনি শিক্ষিকা হিসেবে থিয়েটার স্কুল (১৯৯০), শিক্ষিকা হিসেবে মাস্টারমাইন্ড স্কুল (ফেব্রুয়ারি-জুলাই ২০০৩), শিক্ষিকা, সানবীমস স্কুল ফেব্রুয়অরি ২০০৪ থেকে।
১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের নাট্যশিল্পী হিসেবে তিনি কাজ করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন। কর্মঠ, গুণী এই শিল্পী ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। মঞ্চ নাট্যকের মধ্যদিয়ে এই শিল্পীর অভিনয় জীবন শুরু। মূলত তিনি থিয়েটার নাট্যদলের হয়ে কাজ করেন এবং এ পর্যন্ত তিনি প্রায ৩০টি নাটকের ১১০০ এর বেশি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। এক চরিত্রের নাটক ‘কোকিলারা’ ও সংলাপ বিহীন এক চরিত্রের নাটক ‘একা’তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকমন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া তিনি দুই বোন, চিঠি, কৃষ্ণকান্তের উইল, তাহারা তখন, মেহেরজান আরেকবার নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। সুদক্ষ, নিপুণ প্রতিভাদীপ্ত অভিনয়ের জন্য তিনি অসংখ্যবার পুরস্কৃত হয়েছেনÑ একুশে পদক (১৯৯৮), প্রথম জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার (১৯৭৫), সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট (১৯৭৫), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার, কাজী মাহবুব উল্লাহ স্বর্ণপদক (১৯৮১), প্রীতিলতা পদক, প্রেক্ষাপট টিভি পুরস্কার, যায়যায়দিন পুরস্কার (১৯৯৪), ধারা স্বর্ণপদক (১৯৯৪), তারকালোক পদক, উইলিয়অম কেরী পদক, ঋষিজ পদক, অন্যদিন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৮), মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, আবুল কাশেম দুলাল স্মৃতি পুরস্কার, মেরিল প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা, পদাতিক কচি স্মৃতি পদক প্রভৃতি। টিভি মিডিয়াতে তিনি অনেক স্মরণীয় কাজ করেছেন যা দর্শকদের মনে আজও দাগ কাটে।
অভিনয়ের সূত্রে তিনি ভারতের দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলা, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, আমেরিকার নিউইয়র্কে ও নিউজার্সী, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর সফর করেছেন।