মেক্সিকোতে মার্কিন পরিবারের ওপর বন্দুকহামলা, শিশুসহ নিহত ৯

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বন্দুকহামলায় এক মার্কিন পরিবারের নয় জন নিহত হযেছে। একটি বড় পরিবারের তিন নারী ও ছয় শিশু সন্তান নিহত হয় বন্দুকধারীদের হামলায়। তারা সবাই মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। স্থানীয় সময় গত সোমবার এই ঘটনা ঘটে। তারা গত এক দশক ধরে মেক্সিকোতে বসবাস করে আসছিলেন।

এই ঘটনার পর আট জন বেঁচে আছেন এখনো। তার মধ্য পাঁচ জনের গায়ে গুলি লেগেছে। তাদের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকসন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই ঘটনার পর বেঁচে যান ডেভিন লঙফর্ড নামের ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার সমানে তার মাসহ ভাই-বোনকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ডেভিন নিজেই রক্ষা করেছিল তার ছয় ভাই-বোনকে। গাছের ডাল-পাতা দিয়ে ঝোপ তৈরি করে তাদের রক্ষা করেছিল। তদের লুকিয়ে রেখে ১৪ মাইল রাস্তা হেঁটেছিল ডেভিন। তার বোন মেক কেনিজ হাতে ব্যথা পেয়েছিল। তারপর সে চার ঘণ্টা হেঁটে উদ্ধারকারী খুঁজে পেয়েছিল।

ঘটনার পর যারা বেঁচে ছিলেন তাদের সবাইকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সিবিএস নিউজ জানায়, যারা হামলা চালিয়েছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছিল। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ি দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি হামলার শিকার ওই পরিবারেরই। স্থানীয় এক্টিভিস্ট জুলিয়ান লেবারোন বলেন, তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। লেবারন পরিবারটি কয়েকটি গাড়ির বহরে করে যাচ্ছিলো। মেক্সিকোর নিরাপত্তা মন্ত্রী বলেছেন, বহর দেখে ভুল করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

ওই পরিবারটির সদস্য লাফে ল্যাঙফোর্ড বলেন, তার যেভাবে হত্যা করেছে তা এক ধরনের বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড। এটি ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এই ঘটনার পর টুইট বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হয়ে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে চাই। মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্টও একে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।