মৃত সোলাইমানি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি ভয়ঙ্কর

Social Share

সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র অচিরেই একথা উপলব্ধি করবে যে, তাদের হামলায় শাহাদাতপ্রাপ্ত লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানি তার জীবিত অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আলী শামখানি এ কথা বলেছেন।

রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী মামলুকের সঙ্গে এক বৈঠকে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে লে. জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। ওই হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ মোট ১০ জন নিহত হন।

পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জেনারেল সোলাইমানিকে শহীদ করার ব্যাপারে ইরানের অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে আলী শামখানি বলেন, ইরান অবশ্যই এই অপরাধযজ্ঞের জবাব সামরিক উপায়ে দেবে; তবে ইরানের জবাব শুধু সামরিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ইরাকি পার্লামেন্টে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের বিল পাসের প্রতি ইঙ্গিত করে ইরানের নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান আলী শামখানি বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পরও ইরাকে মার্কিন সেনা থাকতে পারবে না। যদি থাকে তবে তারা দখলদার সেনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। কারণ, এতদিন ইরাক সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশটিতে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনা মোতায়েন ছিল।

জেনারেল সোলায়মানির শাহাদাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষ থেকে শোক জানাতে তার বিশেষ দূত হিসেবে ইরান সফরে এসেছেন আলী মামলুক।

তিনি ওই সাক্ষাতে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা অঞ্চলের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর মাঝে জেনারেল সোলায়মানির অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানের জনগণ ইরানি জনগণের চেয়ে কম কষ্ট পায়নি।

জেনারেল সোলাইমানি নির্যাতিত জাতিগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন উল্লেখ করে সিরিয়ার বিশেষ দূত বলেন, তার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের ধ্বংস ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের সূচনা হয়েছে।