মুজিববর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

Social Share

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহান জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন গত ১৫ নবেম্বর শেষ হলো। ৮ নবেম্বর এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ কক্ষে জাতির পিতার ছবিসহ এটাই সংসদের প্রথম অধিবেশন। ৯ নবেম্বর সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ প্রদান করেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ১৪৭ বিধিতে সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। গতকাল ১৫ নবেম্বর সংসদে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতি জাতির পিতার প্রতি কিছুটা ঋণমুক্ত হলো। প্রস্তাবটি গ্রহণের আগে এক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সরকারী ও বিরোধীদলীয় ৭৯ সংসদ সদস্য প্রস্তাবের ওপর ১৯ ঘণ্টা ৩ মিনিট আলোচনা করেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন শেষ হয়। এর আগে গত ২২-২৩ মার্চ এই অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত ছিল, যেখানে বিদেশী অতিথি উপস্থিত থাকার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন স্থগিত করা হয়েছিল।

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাব

‘সংসদের অভিমত এই যে, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙালীর অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কখনও আপস করেননি। ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনÑ দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার নিরস্ত্র জনগণ ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ মহান শহীদ ও কয়েক লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। লাল-সবুজের পতাকা ও সংবিধান। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কালে বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মজীবন ও দর্শনের ওপর জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হোক।’

গত ৯ নবেম্বর সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। নোটিস আকারে তাঁর প্রস্তাব উত্থাপনের পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা শেষে গত ১৫ নবেম্বর রাতে প্রস্তাবটি স্পীকার ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ জাতির পক্ষ থেকে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশেষ এই অধিবেশন আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী।

রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ভাষণে বলেন, ‘যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালী থাকবে, এ দেশের জনগণ থাকবে, তত দিনই বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। তাই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাসহ বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে বাঙালীর মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছে, তারা ব্যর্থ হয়েছে। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদের এক করেছিল, সেই ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিক, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পিত কাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন।’

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বঙ্গবন্ধুকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশবাসীকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। যা অনুসরণ করে আমাদের সবাইকে- প্রিয় বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

১৫ নবেম্বর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আনা সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতার কর্মময় জীবন তুলে ধরেন। এ সময় জাতির পিতার কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল গঠনের কারণ ও প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

করোনা সংক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়ন-কর্মকাণ্ড কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে এটাও আমরা মোকাবেলা করে চলছি। করোনার মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়, বন্যা। এরই মধ্যে কোন কথা নেই বার্তা নেই- হঠাৎ করে বাসে আগুন দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাস।

বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, দেশের মানুষের একদিকে করোনা সামলাচ্ছি, অপরদিকে অর্থনীতির গতি যাতে সচল থাকে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। যেখানে যা দরকার আমরা সহযোগিতা দিয়ে মানুষের জীবন-যাত্রা যাতে সচল থাকে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘করোনার চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। আজকে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে। টাকা পয়সা দিয়ে ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন কেনার ব্যবস্থা আমরা রেখে দিয়েছি। যেন যখনই চালু হবে আমরা এটা নিতে পারি। সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। যখনই যা প্রয়োজন আমরা করে যাচ্ছি।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কাজ করেছি। দারিদ্র্যের হার কমাতে পেরেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলে না। নিজেদের অর্থে বাজেট দিতে পারছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ওপর জাতীয় সংসদে তাঁর আনা প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখায় সরকার ও বিরোধী দলের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়ন ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য। এজন্যই তিনি দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। গঠন করেছিলেন বাকশাল। অথচ এ নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির কোন ইজ্জত নেই। তাই তিনি এই জাতিকে সম্মানিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি পাঁচ বছর সময় চেয়েছিলেন উৎপাদন বাড়িয়ে এই জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে। এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন যাতে সকল মানুষ তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য গবর্নর ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। গবর্নরদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছিল। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে সিস্টেম পাল্টাতে চেয়েছিলেন। ৬৫ হাজার গ্রামে সমবায় করতে চেয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পাঁচ বছর সময় পেলে বাংলাদেশ আরও অনেক আগেই উন্নতির পথে এগিয়ে যেত। বঙ্গবন্ধুর নতুন ব্যবস্থা ছিল জনগণের গণতন্ত্র। অথচ পুরো জিনিসটাকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নস্যাত করে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রভুদের দাসত্বকে তারা ভুলতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। এটাই হলো দুর্ভাগ্য। যে কাজ তিনি করতে চেয়েছিলেন তা তিনি করতে পারেননি। ফলে ৪৯ বছরেও দেশ উন্নত দেশ হতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি হচ্ছে। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি। বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলে না। নিজের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি করছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছি।’

সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতির জনকের স্বপ্ন-পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা তুলে ধরেন। দেশবাসী প্রতিনিয়ত অনুভব করে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।

জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের জন্য সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট সাংসদ ও সরকারকে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। অধিবেশনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাই আন্তরিক আলোচনা করেছেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর জাতির পিতাকে বহুভাবে অসম্মানিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে মানুষটি তাঁর সমগ্র জীবন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ উৎসর্গ করে আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁকে অসম্মান করা আমাদের হীনম্মন্যতা প্রকাশ পায়। গোটা বিশ্ব যেখানে বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেখানে আমরা যদি দেশে না করি, তাহলে আমাদের বিদেশীদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। মহান সংসদে যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো, তা আমরা দেশের সকল ক্ষেত্রেই দেখতে চাই। বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।

করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবায় সমগ্র বিশ্ব পর্যুদস্ত। দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিশ্বের সকল প্রান্তে। ক্রমাগত বিশ্ব অর্থনীতির চাকা দুর্বল হয়ে পড়ছে, ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে হাঁটছে। এমতাবস্থায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। জাতির পিতা চিরকাল কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন। সকল সঙ্কটে বঙ্গবন্ধু আমাদের সকল প্রেরণার উৎস। মহান জাতীয় সংসদ মানে দেশের জনগণের প্রতিনিধিদের সম্মিলন। যেখানে সবাই দলমতের উর্ধে উঠে জাতির পিতাকে সম্মানিত করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এটিই জাতির প্রত্যাশা। জাতির পিতার আজীবনের লালিত স্বপ্ন একটি সুখী, সমৃদ্ধ, অসম্প্রাদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তি জাতির পিতাকে সকল বিতর্কের উর্ধে রেখে দেশের কল্যাণে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্রতী হবে, মুজিববর্ষে এই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়