মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী কাদের সিদ্দিকী ৭৫-এ পা রাখলেন

393
Abdul Kader Siddique often hailed as Bagha Kader or Bongo Bir is one of the most famous fighters and organizers of the Bangladesh Liberation War. Siddiqui has to be decorated as Bir Uttom by the government of Bangladesh
Social Share

কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার: মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম ৭৫ বছর বয়সে পা দিলেন। ১৪ জুন তার ৭৪ তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালে এই বীর সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুহাম্মদ আবদুল আলী সিদ্দিকী ও মাতার নাম লতিফা সিদ্দিকী। পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে।

ছোটবেলা থেকেই কাদের সিদ্দিকী প্রতিবাদী, সাহসী ও অন্যায়ের সাথে আপোসহীন। তাঁর ডাক নাম বজ্র। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি ‘বাঘা সিদ্দিকী’ হিসেবেও খ্যাতিমান।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল তথা দেশকে স্বাধীন করার দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রায় ১৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে কাদের সিদ্দিকী গঠন করেন একটি গেরিলা বাহিনী। কাদের সিদ্দিকী বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হওয়ায় বাহিনীটি ‘কাদেরীয়া বাহিনী’ নামে সুপরিচিত। কাদেরীয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা ১১নং সেক্টরে কমপক্ষে তিন শতাধিক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রায় ৩০০০ হানাদার সদস্য হত্যা করেন। কাদের সিদ্দিকী নিজে ৩০টিরও বেশি সম্মুখযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। ফলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীসহ আলবদর, আলশামস, রাজাকারদের নিকট আতংকের নাম ছিল কাদেরীয়া বাহিনী। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর কাদেরীয়া বাহিনীর সহায়তায় কালিহাতী উপজেলার পৌলীতে ভারতীয় ছত্রীসেনা অবতরণ করে। ১১ ডিসেম্বর কাদেরীয়া বাহিনীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত হয়। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কাদের সিদ্দিকীকে বঙ্গবন্ধুর সরকার বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। খেতাব নং- ৬৮ (গণবাহিনী), সেক্টর নং- ১১। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর মুক্তিবার্তা লালবই নং- ০১১৮০২০৪৯৪, বাংলাদেশ গেজেট নং-২৫৪০, জাতীয় তালিকা নং- ৮২।

কাদের সিদ্দিকী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনি হত্যার প্রতিবাদে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এজন্য তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে বঙ্গবন্ধু বাকশাল সরকারের টাঙ্গাইলের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ১৯৯৬, ২০০১ সালে তিনি টাঙ্গাইল- ৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ থেকে বেড়িয়ে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা প্রতীক)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদাই নিবেদিত।

রাজনীতিবিদের পাশাপাশি তিনি একজন সুলেখক। বিভিন্ন পটভূমিতে তাঁর লেখাগুলো পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি। তার রচিত ‘স্বাধীনতা ৭১’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং কাদেরীয়া বাহিনীর প্রামাণ্য দলিল।

কাদের সিদ্দিকী পারিবারিক জীবনে নাসরিন সিদ্দিকীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর এক ছেলে দ্বীপ সিদ্দিকী এবং দুই মেয়ে কুড়ি সিদ্দিকী ও কুশি সিদ্দিকী। তার বড়ভাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী বলেন আমরা বিপ্লবী চে গুয়েভারার ছবি বুকে ধারণ করি। কিন্তু এ জাতির দুর্ভাগ্য কাদের সিদ্দ্কিীর মতো একজন বীরকে যথাযথ সম্মান দেই না। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সারা বিশ^ জানে। জন্মদিনে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেনো ত্যাগ, প্রেরণা ও মুক্তির আদর্শ হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন আমাদের মাঝে।

৭৫ বছরে পা রাখা কাদের সিদ্দিকীর জানান দেশ ও বিশ্বের মানুষ করোনা ভাইরাসে মহাবিপদে রয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করুন এই কামনা করছি। পরিবেশের স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক।

জন্মদিনে মুক্তিযোদ্ধাগণ বলেন বাংলাদেশ নামের একটি ভূখন্ড যতদিন পৃথিবীর মানচিত্রে থাকবে ততদিন দেশে-বিদেশে স্বর্ণাক্ষরে জ্বলজ্বল করবে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং কাদেরীয়া বাহিনী’র নাম।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম অস্ত্র সমর্পণ করছেন।