মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক জননেতা এ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান, এমএনএ এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী ৪ঠা ডিসেম্বর

139
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম
Social Share

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রসৈনিক বৃহত্তর দিনাজপুরের বিপ্লবী জননেতা এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান ছিলেন ১৯৭০ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) এবং মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিমাঞ্চল ক জোনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আজ ৪ঠা ডিসেম্বর তাঁর ৩০তম মৃত্যুবাষির্কী। বেঁচে থাকলে এখন হতেন একশত এক বছরের প্রবীণ।

গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারি হিসাবে রাজনীতি করতেন তিনি কোলকাতায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে জাতির পিতা বঙ্গব›ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠি হিসাবে তাঁরা একইসাথে বেকার হোষ্টেলে থাকতেন।

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের এই উজ্জ্বল নেতা ১৯৪৫ সালে ডিস্টিংশন (৮৫% প্রতি বিষয়ে) সহ তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে তৃতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। অনেক ভাষায় প-িত উচ্চশিক্ষিত এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান, এমএনএ ছিলেন সর্বস্বব্যাগী। এ মহান জননেতার সম্পর্কে দিনাজপুর তথা বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মেহরাব আলী সম্পাদিত দিনাজপুরের ইতিহাস সমগ্র- ৫ম খন্ডে (পৃষ্ঠা নং ৫৮২) লিখেছেন, ”দিনাজপুর বারের লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজীবি, সুলেখক, সম্পাদক, সংসদ সদস্য ও রাজনীতি ক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের উত্তেজিত যুগে। যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন যুদ্ধের সংগঠক ও সংস্থানের ব্যবস্থপনায় প্রাণান্তকর পরিশ্রম করেন তিনি। ঐ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে অনেকগুলি জ্বালাময়ী বক্তৃতা করেন, যা দেশবাসীর মনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অপূর্ব সারা জাগায়। দিনাজপুর বড়মাঠে আয়োজিত ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর বিজয় উৎসবে তাঁর প্রদত্ত ভাষণটিও ছিলো উন্মাদনাময়ী, আবেগময়ী ও জ্বালাময়ী। তিনি রাজনীতির চর্চা করে গেছেন রাজনীতির জন্যে, অন্য কোনো মতলবে নয়। তিনি ভোগীর চেয়ে ত্যাগী ছিলেন বেশী। তবৎ কাজে নিজস্ব সহায় সম্পত্তি উজাড় করে দিতে অকুণ্ঠচিত্ত ।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিনাজপুর শহরে ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রথম দিনাজপুর জেলা কমিটি গঠিত করে দলের প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য এবং তাঁর ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর এ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমানকে প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপর তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের দু দফায় নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।
১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের ফলে বঙ্গবন্ধুর কারামুক্ত হয়ে অক্টোবরের ১০ তারিখে দিনাজপুর সফরে আসেন। সফরের সম্বর্ধনা কমিটির সভাপতি ছিলেন এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান এবং সম্পাদক অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

১৯৭১ সালে প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু হলে এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান, এম,এন,এ দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর মহল্লায় তাঁর বাসায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন । ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নির্দেশনায় বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের নির্বাচিত আহ্বায়ক হিসাবে জেলায় নেতাকর্মী ও তরুণদের সংগঠিত করেন। ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানী সৈন্যরা দিনাজপুর দখল করলে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আঙ্গিক বদলে তাঁকে সভাপতি করে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় পরিষদ গঠিত হয়। একাত্তরে জুলাই মাসে যুদ্ধ সেক্টরগুলো পূর্ণতা পাবার আগ পর্যন্ত এ পদাধিকারবলেই তিনি দিনাজপুর কেন্দ্রীয় মুক্তি-সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর লেটারহেড প্যাডে অসংখ্য নির্দেশনা জারি করেছেন।

মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলো সম্পন্ন করলে, এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান, এমএনএ মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং এবং ৬ নং সেক্টর (অর্ধেক) অঞ্চলের ল্যাফটানেন্ট জেনারেল পদমর্যাদায় সিভিল এ্যফেয়ার্স এ্যডভাইজার, ফ্রিডমফাইটার্স রিক্রুটিং ও লিয়াঁজো অফিসার পদে দায়িত্ব প্রদান করে। জেনারেল ওসমানী স্বাক্ষরিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ৩০ আগষ্ট জারি করা গোপন পরিপত্র নং: ০০০৯জি/২ অনুযায়ী মোঃ আজিজুর রহমানের সদর দফ্তর ছিল ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার অন্তর্ভূক্ত তরঙ্গপুরে। মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত সেই গোপন পরিপত্র অনুয়ায়ী কার্যত তিনি ৭ নং এবং ৬ নং সেক্টর (অর্ধেক) সেক্টরের সকল মুক্তিযোদ্ধার রিক্রুটিং ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনায় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ছিলেন। উক্ত সেক্টরের সামরিক কমান্ডার এবং অধিনন্ত সকলের জন্যে বেসামরিক বিষয়ে তাঁর নির্দেশ মানাটা ছিল বাধ্যতামুলক। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য বিষয়েও পরামর্শ দেবার এখতিয়ার তাঁর ছিল। সকল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র্রে তাঁর সামরিক বিষয়ে প্রদত্ত পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সেক্টর কমান্ডারকে জানানোর নির্দেশ ছিল।

উল্লেখ্য, পশ্চিমাঞ্চল প্রশাসনিক ক জোনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার হিসাবেও দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তিনি । মুক্তিযোদ্ধাদের অবিকৃত তালিকার লাল বই খ্যাত দলিলে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব কাঠামোয় ’স্বাধীনতার বীর সেনানী, স্বরণীয় যারা বরণীয় যারা’ শিরোনাম অধিভূক্ত ক্রম অনুযায়ি এ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান এর কোড ০৭০০০০০০২১ এবং পরে দিনাজপুর -২ আসনের এম,এন,এ হিসাবে ০৭০০০০০০৩৯। সে দলিল অনুযায়ি প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম রাষ্ট্রপতি হিসেবে।

মূলতঃ এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান, এমএনএ এর নেতৃত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক শাসক মুুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সামরিক শাসক দেশদ্রোহীতা ও তিন হাজার লোককে গণহত্যার অভিযোগ এনে অক্টোবর মাসে সামরিক আদালতে তাঁকে হাজির হতে সমন জারি করেএবং পরে মৃত্যুদন্ড দেয়। এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) রিপোর্টে বলা হয়, ১৭ আগস্ট ১৯৭১ দুই দফায় ৩০ এমএনএ কে সামরিক আদালতে তলব। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে ঠাকুরগাঁয়ের মোঃ আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহযোগিতা ও ৩০০০ লোকের হত্যাকা-ে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আছে এক গর্ভস্থ মহিলাকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করা। এর পর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দলিলপত্র: পঞ্চদশ খন্ড। পৃষ্ঠা ২২৭। এখানে এ্যাডভোকেট মোহম্মদ আজিজুর রহমান, এমএনএ এর প্রদত্ত বিবৃতির কিছু অংশ উল্লেখ করা অতি প্রাসঙ্গিক। তিনি লিখেছেন, “২৭ মার্চ দু ঘন্টার জন্যে কার্ফু তুলে নেয়া হয়। এ সুযোগে আমি বেড়িয়ে পড়ি এবং ইপিআর বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থির হয দিনাজপুর ইপিআর ৮ম বাহিনীর বাঙালীদের দায়িত্বে থাকবেন ক্যাপেটর নজরুল হক এবং ৯ম বাহিনীর দায়িত্বে থাকবেন সুবেদার মেজর আবদুর রউফ। আর আমি বেসামরিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবো।”

তিনি আরোও উল্লেখ করেন, “২৪ শে মার্চে আমি ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনীর কয়েকজন সুবেদার ও হাবিলদারের সঙ্গে গোপনে আলাপ করি এবং তাদের উপদেশ দেই পাক অফিসাররা তাদের অস্ত্র জমা দিতে বলরলে তারা যেন তা না করেন। তাদের আরও উপদেশ দেই, এরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে তারা যেন অস্ত্রাগার দখল করে নেন। তারা এতে রাজি হন। দিনাজপুর ইপিআর বাহিনীর একজন সুবেদার যুদ্ধ ঘোষণার পূর্বেই অস্ত্রাাগার লুন্ঠন এবং পাক সৈন্যদের হত্যার জন্য আমার এবং জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি অধ্যাপক ইউসুফ আলীর কাছে অনুমতি চান। কিন্তু আমরা তাঁর এ প্রস্তাবে রাজি হইনি।
২৭ মার্চ পাক বাহিনী আমাকে অনেক খোঁজাখুজি করে। ২৮ শে মার্চ আমি এখান থেকে ঠাকুরগাঁয়ের ইপিআর বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য রওয়ানা হই। ২৯ শে মার্চ ঠাকুরগাঁ পৌঁছি। এখানে সুবেদার মেজর কাজিমউদ্দিন এবং ঠাকুরগাও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে একত্রে কাজ চালিয়ে যাই। সুগার মিলের জীপ নিয়ে দিনাজপুর ৯ নং ইপিআর বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ২৯ তারিখে রওয়ানা হই। ৩০ শে মার্চ দিনাজপুরের কাঞ্চনঘাটে আমাদের মু্িক্তবাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছি। ঐ দিনই দিনাজপুরের ইপিআর ঘাঁটির সব অস্ত্র আমরা লাভ করি। এখানে রফিক সাহেব, ফয়েজ সাহেব, সাজিম ভুঁইয়া, জজ, আব্দুল হান্নান চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন নজরুল হকের সঙ্গে দেখা হয়। ভারতীয় বন্ধুগণ এখনে আমাদের রসদ সরবরাহ করতো।

৩১ মার্চ ঠাকুরগাঁ ঘাঁটি আমাদের দখলে আসে। রাত দশটায় আমরা অস্ত্রাগারের অস্ত্র নিজেদেরে অধিকারে আনি। এ সময়ে স্থানীয় গ্রামবাসী আমাদের সর্বাত্বক সহায়তা করে। এ সময়ে ভারতীয় সীমান্ত থেকে কিছু অস্ত্র ও অয়ারলেস সংগ্রহ করি। আমি ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড়ের রেল লাইন অচল করে দেই এবং প্রাক্তন উইং কমান্ডার জনাত মির্জার সঙ্গে পরামর্শ করে শিবগঞ্জ বিমানঘাঁটি নষ্ট করে দেই। ক্যাপ্টেন নজরুলের দেয়া অস্ত্রসহ আমরা এলাকাব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ ও সংগঠনে তৎপর হই। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক

২রা এপ্রিল সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্রের জন্য ভারতে যাই। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সুবেদার কাজিম উদ্দিনকে পাঠিয়ে আমি ঐ তারিখে গভীর রাতে দেশে ফিরে আসি। ৩রা মার্চ আমাদের দিনাজপুরে যুদ্ধঘাঁটি পরিদর্শন করি। ঐ দিনই দিনাজপুরের ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন আরাফকে ঠাকুরগাঁয়ে ডেকে পাঠাই এবং মিটিং করে সৈয়দপুর ক্যান্টেনমেন্ট আক্রমনের পরিকল্পনা নেই। ৫ এপ্রিল আমি সেতাবগঞ্জ ও পীরগঞ্জ ঘাঁটি অভিমুখে রওয়ানা হই । ৬ এপ্রিল রাতে ভারতে যাই এবং কংগ্রেস নেতা বাবু আর দত্ত, এমএলএ এর সাথে আলাপ করি। অধ্যাপক ইউসুফ আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামারুজ্জামান, মিজানুর রহমান, মনসুর আলী প্রমূখ নেতৃবর্গের সঙ্গেও সেখানে সাক্ষাৎ হয়।

১৩ এপ্রিল পশ্চিম দিনাজপুরের রায়গঞ্জে ফিরি এবং সেখান থেকে এসে দিনাজপুর শহরের উপকন্ঠে প্রবেশের চেষ্টা করি। কিন্তু সে সময়ে পাক বাহিনী দিনাজপুরে প্রবেশ করে প্রবল গুলিবর্ষণ করে। রাতে ক্যাপ্টেন নজরুল হক, সুবেদার মেজর রউফ, সুবেদার ওসমান গনী সাহেবের সঙ্গে ভারত সীমান্তে সাক্ষাৎ হয়। এ সময়ে রাধিকাপুর ষ্টেশনে ভারতগামী হাজার হাজার শরনার্থী দেখতে পাই। এখান থেকে বিএসএফ ক্যাম্পে চলে যাই এবং সেখানে অবস্থান করি। ১৯ এপ্রিল মুক্তিবাহিনীসহ পাকবাহিনীর ঘাঁটি আক্রমন করি। যুদ্ধে আমরা জয়ী হই এবং প্রচুর খাদ্যদ্রব্য উদ্ধার করি। শরনার্থী ক্যাম্পের যুবকদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করি। আমার সঙ্গে এ সময় দিনাজপুরের জজ, ডাঃ নইম উদ্দিন, ছাত্রনেতা আজিজুল ইসলামও ছিলেন। মুজিবনগর সরকার এবং ভারতীয় বাহিনী আমাদের এ ব্যাপারে সহায়তা করে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই স্বর্ণসন্তান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ৪ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে দিনাজপুর শহরে ঘাসিপাড়া মহল্লায় ভাড়াবাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ইন্তেকাল করেন।


ছবি ক্যাপশন: বাম থেকে পেছনে তাজুদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক শহীদ সিরাজুদ্দিন হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান। সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মানিক মিয়া।
এ ছবিটি দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে ১৯৬৯ সালের ৩ মার্চ মাসে স্টাফ ফটোগ্রাফার আফতাবুর রহমান তুলেছেন।

– লেখক: মুজতবা আহমেদ মুরশেদ