মিয়ানমারে বিক্ষোভে একদিনে নিহত ৩৯ জন, কয়েকটি স্থানে ‘মার্শাল ল’ জারি

44
Social Share

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গতকাল রবিবার আরো অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ জন বিক্ষোভকারী। সারা দেশের হিসেবে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এই একদিনে। এ ছাড়া হ্লাইংথায়াসহ দুটি এলাকায় সামরিক আইন জারি করেছে জান্তা সরকার।

ইয়াঙ্গুনের হ্লাইং থারিয়ার এলাকায় গতকাল রবিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছুরি ও লাঠি হাতে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। সংঘর্ষ শুরু হলে তাদের ওপর গুলি চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। এতে ২২ জনের মৃত্যু হয়। দেশটির অন্যান্য শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য।

অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারসকে (এএপিপি) দেশটির এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক বলেন, ‘এটা ভয়ঙ্কর। আমি চোখের সামনে গুলি করে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে দেখেছি। এমন নৃশংস দৃশ্য জীবনেও ভুলতে পারব না।’ যদিও নিজের নাম প্রকাশ করতে বারণ করেছেন ওই সাংবাদিক, তার তিনি এএপিপিকে বলেছেন, ‘চোখের সামনে গুলি করে পাখির মতো মানুষ মেরে ফেলছে জান্তা সরকার। দেশটিতে এ নিয়ে মোট ১৪০ বিক্ষোভকারী নিহত হলেন।

এ ছাড়া হ্লাইংথায়াসহ দুটি এলাকায় সামরিক আইন জারি করেছে জান্তা সরকার। গত শনিবারও সামরিক সরকারের নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে আরো ১৩ জন নিহত হয় মিয়ানমারে। একই দিন দেশটির সরকারর প্রধান হিসেবে মান উইন খাইং থানের নাম ঘোষণা করেছে ‘কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পিডাংসু হাল্টাও’ (সিআরপিএইচ) নামে একটি দল। নিজেদের সরকার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে স্বঘোষিত দলটি।

গত শনিবার অভ্যুত্থানের পর প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে ‘বিপ্লবের’ ডাকও দিয়েছেন স্বঘোষিত বেসামরিক সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। মান উইন খাইং থান একজন সাবেক আইনপ্রণেতা। নতুন দল ঘোষণা ও বিপ্লবের ডাকের কারণে তিনিসহ দলের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী সিআরপিএইচকে একটি অবৈধ গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, কেউ যদি তাদেরকে সহযোগিতা করে, তবে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে গণ্য করা হবে।

এ ছাড়া গতকাল রবিবার জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মিয়ানমারের অন্যতম বড় শহর ইয়াঙ্গুনে বেশ কয়েকটি চীনা অর্থায়নের কারখানা ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া কারখানাগুলো চীনা অর্থায়নে চলছিল। এখানে ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকজন চীনা নাগরিকও আহত হয়েছেন। তবে কারা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি, কোনো গোষ্ঠীও এ ঘটনার দায়ভার স্বীকার করেনি। দূতাবাসের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সকল সহিংসতা বন্ধে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মিয়ানমারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছে চীন। আইন অনুসারে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হোক এবং মিয়ানমারে চীনা নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। বিবৃতিতে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা যাতে আইন মেনে নিজেদের দাবি প্রকাশ করেন।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন।