মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস পালিত

310
Social Share
কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার: আজ ৭ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আলোচনা সভা ও মোমবাতি প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে গনহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্সের আনন্দ নিকেতনে আলোচনা সভার হয়। অন্যদিকে সন্ধায় উপজেলা প্রশাসের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন কর্মসূচী পালিত হবে বলে ইউএনও হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।
ভারতেশ্বরী হোমসের সিনিয়র শিক্ষিকা কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক (এমডি) রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শিক্ষা একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক শ্রী মহাবীর পতি, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. এম এ হালিম ও নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার রীনা ক্রুস।
সভায় ১৯৭১ সালের ৭ মে নিহতের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা করে শোক প্রকাশ করা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মে গণহত্যা চালিয়ে এশিয়াখ্যাত দানবীর কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহাসহ ৩১ নিরপরাধ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন আইয়ুব এবং তাদের স্থানীয় দোসর মাওলানা ওয়াদুদের নেতৃত্বে একটি দল মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রাম দুটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর পাখির মতো গুলি করে হত্যা ও লুটপাট করে। এতে সদা কর্মচঞ্চল কোলাহলময় গ্রাম দু’টি এক ভুতুরে পুড়িতে পরিণত হয়। এই বাহিনীই সন্ধ্যার পর নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।
সেদিনের সেই স্মৃতি মনে করে প্রতি বছর মির্জাপুর গ্রামবাসি রণদা নাট মন্দিরে কীর্তন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে। কুমুদিনী পরিবার থেকেও কমপ্লেক্সে প্রার্থনা সভা, কাঙ্গালী ভোজ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে। কিন্ত এ বছর করোনা মহামারী ও লকডাউন চলমান থানায় সেকল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।