মিয়ানামের সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ সেই নারীর মৃত্যু

15
Social Share

মিয়ানামের সামরিক অভ্যূত্থান হওয়ার পর এই প্রথম একজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। তিনি এর আগে পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন নামের ২০-বছর বয়সী ওই নারী জলকামান, রাবার বুলেট এবং গুলি করে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার সময় গত মঙ্গলবার আহত হন।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হবার পর গত ৯ই ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো তাকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিহত তরুণীর ভাই বলেছিলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এবং বলার কিছু নেই।’

তিনি আহত হবার পর মেডিক্যাল সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বার্মিজ বিভাগ জানিয়েছিল যে ওই নারীর মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।

অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। এর আগে ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে দেশটির কয়েক দশকব্যাপী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩,০০০ বিক্ষোভকারী মারা যায়, আর ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন। দুই ঘটনাতেই হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মানুষ কেন বিক্ষোভ করছে?

সাধারণ নির্বাচনের পর এনএলডি পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনী বিরোধী একটি দলকে সমর্থন দিচ্ছে, যারা নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।

পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে আগে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনাটি ঘটে। সু চি গৃহবন্দি রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ওয়াকি-টকি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এনএলডির আরও অনেক নেতাও আটক রয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।