মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Social Share

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ আজ রবিবার (১৯ জানুয়ারি) এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

ডিআইজি মিজানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতেই অবৈধভাবে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছিলেন সাময়িক বরখাস্ত দুদক পরিচালক এনামুল বাছির। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নিতে খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রভাবিত করতে ৪০ লাখ টাকা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ফরেনসিক প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ডিআইজি মিজান গত ১৫ জানুয়ারি  শপিং ব্যাগে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা খন্দকার এনামুল বাছিরকে দিতে রমনা পার্কে গিয়ে উভয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে একত্রে বেরিয়ে তাঁরা যান ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায়। সেখানে খন্দকার এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকাসহ একটি ব্যাগ নিয়ে বাসায় চলে যান। একইভাবে মিজান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শপিং ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা বাছিরকে দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উভয়ের ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, খন্দকার এনামুল বাছির তাঁর ছেলেকে ঢাকার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার জন্য ডিআইজি মিজানের কাছে একটি গাড়ি দাবি করেন। গাড়ি দাবির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বিভাগীয় তদন্ত দলের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।