মাশরাফির ম্যাচে লিটনের মহাকীর্তি

এই ম্যাচের ফল নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ ছিল না। পারফরম্যান্স নিয়েও না। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বিদায়ি ম্যাচ হিসেবেই তো এটি চিহ্নিত হয়ে থাকার কথা। লিটন দাসের কি তাতে খানিকটা মন খারাপ হবে?

ওয়ানডেতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেললেন, দল জিতল ১২৩ রানে, সিরিজ জিতল ৩-০ ব্যবধানে—সেসব কিছুই যেন মাশরাফির বিদায়ের রাগিণীতে মিশে গেছে সমকালের স্রোতে। মহাকালের স্রোতেও কি আলাদা কীর্তির ঢেউ হিসেবে লিটনের ১৭৬ রানকে স্মরণ করা হবে?

ঠিক আগের ম্যাচেই ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসের সিংহাসনে বসেছিলেন তামিম ইকবাল। সিংহাসনে তিনি অবশ্য আগে থেকেই ছিলেন, নিজেকে আরো উচ্চতায় নিয়ে গেছেন— এই যা! ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪ ছাপিয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করেন ১৫৮। মাঝে পেরিয়ে গেছে সাড়ে দশ বছর সময়; বাংলাদেশ খেলেছে ১৭০টি ওয়ানডে। অথচ তামিমকে সিংহাসনছাড়া করতে লিটন সময় নিলেন কিনা মাত্র তিন দিন। ঠিক পরের ম্যাচে তৃতীয় ওয়ানডেতে তাঁর এই মহাকাব্যিক ১৭৬।

অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারের শেষ টসে জিততে পারেননি মাশরাফি। তবে তাতে হেরে যে মন খারাপ হয়েছে, তা বলা যাবে না। কেননা ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দাস ও তামিম ইকবাল তাণ্ডব চালানো শুরু করেন শুরু থেকেই। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি দুই ওপেনারেরই। তৃতীয় ম্যাচে সেটিকে দুইয়ে নিয়ে যান দুজনই। মাঝে অবশ্য বৃষ্টির রসভঙ্গের চেষ্টা ছিল। ৩৩.২ ওভারে বিনা উইকেটে ১৮২ রান করার পর নামে বৃষ্টি। ততক্ষণে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে লিটনের; তিন অঙ্ক থেকে ২১ রান দূরে তামিম।

ততক্ষণে ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান হয়ে গেছে। আড়াই ঘণ্টা বৃষ্টিবিরতির পর খেলা শুরু হলে সব উইকেটেই সর্বোচ্চ রানের জুটি হয়ে যায়। ভাগ্যের স্পর্শ লিটন পেয়েছেন যথেষ্ট। তাঁর ৫৪ রানের সময় যেমন রিভিউ নিলে এলবিডাব্লিউ আউট হয়ে যান। আউটফিল্ডে তিন-তিনবার ক্যাচ না পড়লে ফিরে যান কত আগেই! কিন্তু সে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস গড়েন লিটন। ১৪৩ বলে ১৬টি চার এবং আটটি ছক্কায় ১৭৬ রান করে আউট হলে ভাঙে ২৯২ রানের জুটি।

বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন তামিমও। ১০৯ বলে ১২৮ রানে থাকেন অপরাজিত। তিন উইকেটে ৩২২ রানে ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২। প্রথম ওভারেই মাশরাফির ব্রেক থ্রু। উপলক্ষটা যেন আরো রাঙিয়ে দেন তাতে।

আগের ম্যাচে ৩২২ রান তাড়া করেও জয়ের চোখ-রাঙানি দিচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। কাল আর তা হয়নি। ধুঁকতে ধুঁকতে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। মাশরাফি পান ওই একটি উইকেটই। চার উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

কিন্তু লিটন যতই ১৭৬ রানের ইনিংস খেলুন কিংবা তামিম অপরাজিত সেঞ্চুরি অথবা সাইফউদ্দিন চার উইকেট—শেষ পর্যন্ত এটি মাশরাফির ম্যাচ। অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচ।