মার্চ মাসে ঋণের সুদে ক্যাপ বসিয়ে সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Social Share

তিমির চক্রবর্ত্তী: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ি ব্যক্তি আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার (ক্যাপ পদ্ধতি) বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না। এটা বাজারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি আমানতের সুদহার বেঁধে দেওয়ার পক্ষে নয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

কারণ ব্যক্তি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হলে আমানতকারীরা ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়তে পারে।

এই বিবেচনায় ব্যক্তি আমানতের ক্ষেত্রে ক্যাপ না বসানোর পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী মাসে শুধু ঋণের সুদেই ক্যাপ বসিয়ে সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই সব ধরনের ব্যক্তি আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি।

 বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বিক্রয় রেট (লেন্ডিং রে) বেঁধে দিলে ক্রয় রেট (আমনতের রেট) বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ এখানে জরুরি হলো লেন্ডিং রেট। আর আমরা তো লেন্ডিং রেটে ক্যাপ বসিয়েই দিচ্ছি। আর আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোই ঠিক করবে তারা কত রেটে তহবিল নেবে। অবশ্যই বিক্রয় রেট মাথায় রেখেই এটা তাদের ঠিক করতে হবে। কোনো ব্যাংক যদি ৬ শতাংশের জায়গায় ৭ শতাংশ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, এতে সমস্যার কিছু নেই। এখানে দর-কষাকষির সুযোগ রাখার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আমানতকারী ও ব্যাংক উভয়ই লাভবান হবেন।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড বাদে সব ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। এ ছাড়া সব ধরনের আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার ৬ শতাংশ।  এখন পর্যন্ত ওই সার্কুলার জারি না হলেও গত ২৮ জানুয়ারি এবিবির এক বৈঠকে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যক্তি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে দেশের ৬০টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে গড়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ দিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি, বিশেষায়িত দুটি, বিদেশি চারটি ও বেসরকারি ১৩টি ব্যাংক। বাকি ৩৩টি ব্যাংক আমানতকারীদের গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদ দিয়েছে।

২০ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা এবং এর সর্বোচ্চ সুদের হার ৬ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ পরিপালনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।