মার্চেই নির্মাণ শুরু বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর : রেলপথমন্ত্রী

আগামী বছরের মার্চ মাসে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর নির্মাণ শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলে তা হুমকির সম্মুখীন। পাশপাশি সেতুতে একটি লেন থাকায় ট্রেন চলাচলেও রয়েছে দুর্ভোগ। এ ছাড়া ভারত-বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে ভারী ওয়াগন বহনে সেতুটিও সক্ষম নয়। তাই সব দিক বিবেচনা করে সরকার বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তর পাশ দিয়ে আরেকটি রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যেই রেলসেতু নির্মাণে টেন্ডারসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। অপেক্ষা শুধু নির্মাণ কাজ শুরুর।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। যা আগামী ৪ বছরের মধ্যে শেষ হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় ও রেলস্টেশনসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের নানামুখী উন্নয়নের কজ চলমান আছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর থেকে ৩০০ গজ উজানে ডাবললাইন ডুয়েলগেজে বঙ্গবন্ধু রেলসেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়াও ভারতের সাথে বর্তমানে রেল যোগাযোগের ৮ পয়েন্টের মধ্যে ৪টিতে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা আছে। বর্তমানে ভারত থেকে যে সমস্ত ভারী পণ্য আমাদের দেশে আসে তার ভারী ওয়াগন বহনে সেতুটিও সক্ষম নয় তাই নতুন রেলসেতু হলে ভার বহনের এই সমস্যা দূর হবে। এতে করে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি বাড়বে। এরই মধ্যে দুই দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এখানে একটি আইসিডি কন্টেইনার ইয়ার্ড তৈরি করা হবে। যার জন্য স্থান নির্ধারণের জন্য উভয় পক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ঢাকার সাথে উত্তর বঙ্গের সাথে যোগাযোগের দূরত্ব কমাতে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সিরাজগঞ্জ হতে বগুড়ার সাথে সরাসরি রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্য দিয়ে সবাইকে রেল সেবার আওতায় আনার জন্য সরকার কাজ করে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গের এ কাজও দ্রুতই শুরু করবে সরকার।

এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য, কে এম হোসেন আলী হাসান সহ মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।