মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষায় অনুমোদন চিনের

A transit police officer checks the temperature of a truck driver as a preventive measure against the new coronavirus, during a partial curfew ordered by the government in Villa Nueva, Guatemala, on April 2, 2020. - The Central American country has 47 confirmed cases of the new coronavirus, including one dead person and ten who recovered. (Photo by Johan ORDONEZ / AFP)
Social Share

বেজিং: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নয়া পদক্ষেপ চিনের। মানুষের শরীরে দু’টি ভ্যাকসিন পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হল। এছাড়া রাশিয়া থেকে কাউকে দেশে ফিরতে বারণ করা হয়েছে। কারণ, রাশিয়া থেকে আসা বহু মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই কারণে সতর্কতা অবলম্বন করছে চিন।

আজ চিনের কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ‘চিনের মানুষ দেখেছেন, রাশিয়ায় করোনা ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সতর্ক হওয়া উচিত। চিনের অবশ্যই বাইরে থেকে করোনা আক্রান্তদের দেশে আসা বন্ধ করতে হবে। দেশে যাতে দ্বিতীয়বার করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

রাশিয়া থেকে চিনে আসা ৪০৯ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল চিনের উত্তর-পূর্বে সীমান্তবর্তী প্রদেশ হেইলংগিজিাংয়ে নতুন করে ৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই রাশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। চিনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯ জন। হেইলংগিজিাং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশ থেকে বেআইনিভাবে আসা কারও বিষয়ে খবর দিলে ৭১০ মার্কিন ডলার (৫,০০০ ইউয়ান) পুরস্কার দেওয়া হবে।

চিনে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২,২৪৯ জন। মৃতের সংখ্যা ৩,৩৪১। মঙ্গোলিয়াতেও নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। প্রত্যেকেই রাশিয়া থেকে এসেছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে লোকজনের দেশে ফেরা বন্ধ করার পাশাপাশি মানুষের উপর ভ্যাকসিন পরীক্ষারও ব্যবস্থা করছে চিন। এছাড়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে হাসপাতাল ও আইসোলেসন সেন্টার পয়েন্ট তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আজ চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানিয়েছেন, ‘সীমান্তের দু’পারেই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার চিনের নাগরিক আছেন। তাঁদের দেশে ফেরা আটকানোর জন্য সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে ট্রেন পরিষেবা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়ির জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই অঞ্চলের প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তিন দিন অন্তর বাড়ি থেকে বেরনোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ দোকান-বাজারই বন্ধ।’