মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শমী কায়সার

দুটি স্মার্ট ফোন খোয়া যাওয়ার কারণে অভিনেত্রী শমী কায়সার প্রেসক্লাবে সংবাদকর্মীদের চোর বলে সম্মোধন করার জেরে তার বিরুদ্ধে আনা মানহানির অভিযোগের কোন সত্যতা নাই। অন্যদিকে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখিত এমন বক্তব্যে মামলার বাদী সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না রাজি দিবেন বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পুলিশ প্রতিবেদনটি ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে উপস্থাপন করার পর শুনানি শেষে সংক্ষুব্ধ বাদী নারাজী আবেদন দাখিলের জন্য সময় চাইলে আগামি ২৫ নভেম্বর দিন করা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু-৩৬৫’ এর উদ্ধোধনকালে মিডিয়া কর্মীসহ সরকারি উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও সেলিব্রেটি এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের উপস্থিতিতে শমী কায়সার এর দুটি স্মার্টফোন খোয়া যায়। এতে  মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। খোয়া যাওয়া মোবাইল সেট দুটি উদ্ধারের লক্ষ্যে সেখানে আগত কিছু সংখ্যক লোককে তল্লাশি করার জন্য সহকর্মীদের বললেও তারা কাউকে চেক করেনি। কিন্তু শমী কায়সারের কথায় সেখানে উপস্থিত কতিপয় সংবাদকর্মী চোর সম্বোধন করেছে মর্মে ভুল বুঝেছেন। পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন শমী কায়সার। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপরও বাদী মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আনা অভিযোগের ভিত্তিতে সার্বিক তদন্তে শমী কায়সার কর্তৃক বাদীর মানহানির কোন ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রকাশ পায়।

এদিকে আদালতে উপস্থিত থাকা মামলার বাদী অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্টুডেন্ট জার্নালবিডির সম্পাদক মিঞা মো. নুজহাতুল হাসান প্রতিক্রয়ায় বলেন, প্রেসক্লাবের মতো জায়গায় শমী কায়সার সাংবাদিকদের চোর বলে সম্বোধন করে সাংবাদিক সমাজের মানহানি করেন। তার ওই বক্তব্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের আসে। তারপরও পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পায়নি।

গত ৩০ এপ্রিল ১০০ কোটি টাকার মানহানি ঘটেছে অভিযোগ এনে নালিশী অভিযোগে মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত করে শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত শেষে শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহাবুবুর রহমান গত ২ অক্টোবর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।