মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য র্কীতিসমূহ-৪

Social Share

বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে বহু ধর্মের মানুষ বাস করে। মুসলমানদের জন্য অবশ্যপালনীয় ৫টি ফরজের মধ্যে হজ্জ অন্যতম। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও সৌদিআরব সরকারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় হজ্জ পালন বাঁধাগ্রস্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সমস্যা নিরসনে সৌদি বাদশাহ ফয়সালের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ধর্মীয় কাজে বঙ্গবন্ধুর এ উদ্যেগের ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ধর্মের কল্যাণে ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা অব্যাহত রয়েছে।

পাঠকের স্মরনার্থে ১৯৭৩-এর ৫ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে চতুর্থ ন্যাম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সৌদি বাদশাহ ফয়সালের মধ্যে অনুষ্ঠত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিবরণ দেয়া হলো- ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের পরহেজগার মুসলমানরা স্বাধীনতা পরবর্তীকালে একটা সময় পর্যন্ত পবিত্র কাবায় গিয়ে হজ্জ পালন করতে পারতেন না। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়টুকু সৌদিআরব সরকারের কাছে বাংলাদেশ নামক কোন দেশের অস্তিত্ব না থাকায় বাংলাদেশী মুসলমানরা হজ্জ করতে যেতে পারছিলেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী একটি অর্ডিন্যান্স পাশ করেন, যেখানে বলা হয় বাংলাদেশীরা ভারত থেকে হজ্জ যাত্রা করতে পারবেন। কিছু মানুষ এভাবে হজ্জ করেছিলেন বলেও জানা যায়। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রদর্শন ছাড়াও কিছু জটিলতা সৃষ্টি হলে এ ব্যবস্থা বেশিদিন টেকসই হয়ে ওঠেনি। অনেক কূটনৈতিক আলোচনা করেও সৌদি সরকারের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় ১৯৭৩-এর ৫ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে চতুর্থ ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু। বৈঠক চলাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৌদির বাদশাহ ফয়সালের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঐ বৈঠকে বাদশা ফয়সাল এলেন, দুই নেতা পাশাপাশি সোফায় বসলেন, বাদশা ফয়সালের দোভাষী বসলেন মাঝখানে। পারস্পরিক স্বাস্থ্য ও কুশল বিনিময়ের পর কথোপকথন শুরু হলো। সেই কথোপকথনের মূল অংশ নিম্নরূপ:

বাদশা ফয়সাল: আমি শুনেছি যে, বাংলাদেশ আমাদের কাছে কিছু সাহায্য আশা করছে। আপনি আসলে কি ধরনের সাহায্য চাচ্ছেন। আর হ্যাঁ যেকোনো ধরনের সাহায্য দেয়ার আগে আমাদের কিছু পূর্বশর্ত আছে।

বঙ্গবন্ধু: ইউর এক্সিলেন্সি, আশা করি আমার দুর্বিনীত ব্যবহার ক্ষমা করবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমার মনে হয় না বাংলাদেশ ভিক্ষার জন্য আপনার কাছে হাত বাড়িয়েছে। ফয়সাল: তাহলে আপনি সৌদি আরবের কাছে কি আশা করছেন?

বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশের পরহেজগার মুসলমানরা পবিত্র কাবায় গিয়ে ইবাদত পালনের অধিকার দাবি করছে। যদি ইবাদত পালনের জন্য আপনার কোনো পূর্বশর্ত থেকে থাকে তাহলে আপনি তা বলতে পারেন। আপনি পবিত্র কাবা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক। বাঙালি মুসলানদের কাছে আপনার স্থান অনেক উঁচুতে। একথা নিশ্চয় স্বীকার করবেন, সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদেরই সেখানে ইবাদত করার অধিকার রয়েছে। সেখানে ইবাদত পালন করার কোনো প্রকার শর্ত আরোপ করা কি ন্যায়সঙ্গত? আমরা সমঅধিকারের ভিত্তিতে আপনার সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।

ফয়সাল : কিন্তু এটা তো কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হলো না। দয়া করে আমাকে বলুন আপনি সৌদি আরবের কাছে আসলেই কি আশা করছেন? বঙ্গবন্ধু: ইউর এক্সেলেন্সি। আপনি জানেন যে, ইন্দোনেশিয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আমি জানতে চাই, কেন সৌদি আরব স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে আজ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি? ফয়সাল: আমি অসীম ক্ষমতাবান আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে জবাবদিহি করি না। তবু আপনাকে বলছি, সৌদি আরবের স্বীকৃতি পেতে হলে বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ‘Islamic Republic of Bangladesh` করতে হবে। বঙ্গবন্ধু: এই শর্ত বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে না। বাংলাদেশের জনগণের অধিকাংশ মুসলিম হলেও আমার প্রায় এক কোটি অমুসলিমও রয়েছে। সবাই একসঙ্গে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, ভোগান্তিতে পড়েছে, আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ শুধু মুসলিমদের জন্যই নন, তিনি বিশ্বভ্রম্মান্ডের স্রষ্টা। ইউর এক্সেলেন্সি, ক্ষমা করবেন, তাছাড়া আপনার দেশের নামও তো ‘Islamic Republic of Saudi Arabia` নয়। বাদশা ইবনে সৌদের নামে নাম রাখা হয়েছে ‘Kingdom of Saudi Arabia’। আমরা কেউই এই নামে আপত্তি করিনি।

এ সময় অনাকাঙ্খিতভাবে শেষ হয় আলোচনা। উঠে পড়েন বাদশা ফয়সাল। দুনেতা বেরিয়ে যেতে থাকেন। যাওয়ার আগে সেই কালো ফ্রেমের চশমা পরা হিমালয়ের মত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী মানুষ বঙ্গবন্ধু মুজিব উচ্চারণ করেছিলেন, “লা-কুম দ্বীনুকুম ওয়াল-ইয়া দ্বীন”।‘ ১৬ আগস্ট ১৯৭৫, সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, সেদিন বঙ্গবন্ধুর জানাজা পড়া হচ্ছে এদেশে। (তথ্যসূত্র : মুজিবের রক্ত লাল, এম আর আখতার মুকুল) যাক সেকথা। বাংলাদেশের হজ্জ যাত্রীর সীমাহীন কষ্ট, রেজিষ্ট্রেশন, মেডিকেল চেকআপ, টিকিট প্রাপ্তি, ইমিগ্রেশন, লাগেজ পরিবহন, বাড়িভাড়া, খাওয়া-দাওয়া সর্বক্ষেত্রেই ভোগান্তি, হয়রানী ও অবহেলার অবসান করার জন্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং কার্যকর করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সার্বিক সহযোগিতার কারনেই হজ্জ পালনের সু-ব্যবস্থাপনা সম্ভবপর হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০১৯ সালের হজ ব্যবস্থাপনার সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, মুসলিম জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে প্রাপ্য অতিরিক্ত ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধি, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অপেক্ষার সময় ও কষ্ট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সৌদি আরবের পরিবর্তে বাংলাদেশেই প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা, হজের সময় মিনায় অবস্থানকালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দ্বিতল খাট ব্যবহারে বাধ্য না করা, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের উন্নত খাবার পরিবেশন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি এজেন্সির সর্বনিম্ন হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫০ থেকে ১০০-তে কমিয়ে আনা এবং পবিত্র হজের দিনগুলোয় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা, মিনা, আরাফা, মুজদালিফায় যাতায়াতের সুবিধার্থে পুরনো বাসের পরিবর্তে উন্নতমানের নতুন ও পর্যাপ্তসংখ্যক বাস সরবরাহের জন্য কুটনৈতিকভাবে অনুরোধ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধি ছাড়া অন্য প্রায় সব দাবি মেনে নেয়। কোটা বৃদ্ধির বিষয়টি আন্তরিকতা সহকারে রয়াল কেবিনেটে উপস্থাপন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশি হাজীর সংখ্যা ১০ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৭,৭৫০ জন হয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম সফলতা হলো সৌদি কর্তৃপক্ষের ‘Makkah Route Initiative Framework’-এর আওতায় সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই সম্পন্ন করা হয়। সরকার সৌদি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইটি সহযোগিতা ও নিয়মিত সমন্বয় সাধন করে। প্রথম বছরেই ৬১ হাজার ৫৯০ জন হজযাত্রী এই সেবা পেয়েছেন। হজ্জের সফরে কষ্টকর বিষয় হলো লাগেজ পরিবহন করা। লাগেজ পরিবহনের কষ্ট লাঘবের জন্য ‘Makkah Route Initiative Framework’ কার্যক্রমের আওতায় United Agents Office-এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের লাগেজ ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি হজ্জযাত্রীর মক্কার হোটেলের কক্ষে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

‘ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা’—এ স্লোগান সামনে রেখে পুরো হজ্জ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল হজ্জ ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশের হজযাত্রীরা পবিত্র হজব্রত পালনের নিমিত্তে অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধনপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারেন। হজের প্রতিটি পর্যায়ে সব করণীয় বিষয় প্রত্যেক হাজিকে খুদে বার্তা, ফোন কল ইত্যাদির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ইলেকট্রনিক টিকা প্রত্যয়নপত্র সিস্টেমে সংযোজন করার ফলে সব হজযাত্রীর মেডিক্যাল প্রফাইল হজযাত্রার আগেই সম্পন্ন করা হয়। শতভাগ হজযাত্রীর ভ্যাকসিন হেলথ প্রফাইল সিস্টেম চালু করার ফলে শতভাগ হজযাত্রীর ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হচ্ছে। পূর্বের ন্যায় হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড় করিয়ে না রেখে, লক্ষাধিক হজযাত্রীর সুশৃঙ্খল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিউ সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট শুরুর বেশ আগেই তারিখ নির্ধারণ করে সরাসরি হজ এজেন্সির কাছে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং টিকিট বিক্রির তথ্যপ্রাপ্তির জন্য সিস্টেমে পে-অর্ডার ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব হয়েছে। হাজীদের থাকার জন্য বাড়িভাড়ার আগাম তথ্য সংগ্রহের ফলে মনিটরিং সহজ হয়েছে। হজের আগেই মক্কা ও মদিনার বেসরকারি হজ এজেন্সি কর্তৃক ভাড়াকৃত শতভাগ হোটেল বা বাড়ি পরিদর্শন করা সম্ভব হয়। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সারা দেশে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে সকল হজযাত্রীর জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে তাঁরা অত্যন্ত সহজে হজের সকল ফরজ-ওয়াজেব আদায় করে হজ্জ কার্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারছেন।

হজযাত্রীদের হজে গমনে যেকোনো প্রকার অনিশ্চয়তা পরিহার করার লক্ষ্যে হজ ব্যবস্থাপনা ইনফরমেশন সিস্টেম হতে রিপোর্ট ব্যবহার করে বেসরকারি হজ্জ এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম প্রতিনিয়ত মনিটর করা হয়। ফলে হজ অফিস ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সম্মানিত হজযাত্রীদের সঠিক নিয়মে হজ্জ পালন ও ধর্মীয় বিধি-বিধান বিষয়ে পরামর্শ, দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সমন্বয়ে ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট হজ ওলামা-মাশায়েখ টিম গঠন করে পবিত্র হজে পাঠানো হয়েছে। এত বৃহৎ পরিসরে সরকারিভাবে ওলামা-মাশায়েখদের হজব্রত পালনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। বিষয়টি সুধীমহলসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশ-বিদেশে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে হজ ক্যাম্পের ইমিগ্রেশন পয়েন্ট, মসজিদ ও সম্মানিত নারী হজযাত্রীদের ডরমিটরিতে এসি স্থাপন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে বর্তমান সরকার। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অংশ হিসেবে আইন পাশ করা হয়েছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের মতো দেশে যে আলেম ওলামাদেরও প্রয়োজন সে ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ভিত রচনা করেছেন। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়ে এরই মধ্যে ২ হাজার ২০ জনকে সরকারি পর্যায়ে আরবি গণশিক্ষা মাদ্রাসায় চাকরি দিয়েছে সরকার। গঠন করা হয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন ও ইমাম মোয়াজ্জিম কল্যাণ ট্রাস্ট। সারা দেশে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ চলছে। একই সাথে ১ হাজার ১০টি দারুল আকরাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বিজ্ঞান ও আইসিটি অন্তর্ভূক্ত করা বড় সাফল্য এই সরকারের।

শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, হিন্দু ধর্মের জন্য ও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের অবসরপ্রাপ্ত পুরোহিত রতন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আমাদের বাচ্চারা আগে গীতাশিক্ষা পেতো না, কিন্তু এখন তা আমরা সরকারের মাধ্যমে চালু করেছি। আগে যেমন মূর্তি ভাঙা, পুড়িয়ে দেয়া, মন্দির ভাঙ্গা এ ব্যাপারগুলো ছিলো, এখন সরকার এসব বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার‘।
ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম ছাড়াও বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্যও নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে সরকার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্যাগোডাভিত্তিক শিক্ষার জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এভাবে সকল ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

(চলবে…পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামীকাল এর বাংলাইনসাইডার এ)