মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য র্কীতিসমূহ-১

Social Share

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। আপনার কালজয়ী নেতৃত্বগুণে আপনি সারা বিশ্বের বিস্ময়। স্বাধীনতার পর আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে ব্যঙ্গোক্তি করেছিল। আপনার দূরদর্শী ভিশনারী নেতৃত্বের যাদুকরি স্পর্শে সে সময়ের ব্যঙ্গোক্তিকে মিথ্যা প্রমান করে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বের উন্নয়নের ‘রোল মডেল’এ পরিনত করেছন। ম্যালথাস বাংলাদেশ নিয়ে তত্ব দিয়েছিলেন “খাদ্যশস্যের উৎপাদন যখন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায় তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে এবং এর ফলে বাংলাদেশ কখনো ঘুরে দাড়াতে পারবে না”। ম্যালথাসের সেই তত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্য ভান্ডারে পরিণত হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ড এর পর দীর্ঘদিন প্রদiবাসে থেকে সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১-র ১৭ মে দেশে ফিরেই বাংলাদেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেন।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে সব প্রতিকূলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বাস্তবস্মমত প্রকাশ ঘটান। একই সময়ে দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছেন এবং উত্তরবঙ্গে  বহুল প্রচলিত ‘মঙ্গা’(একটা নির্দিষ্ট সময়ের অভাব-অনটন) শব্দটির বিলুপ্তি ঘটিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে বাঙালি জাতির আবেগ জড়ানো একুশে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব অর্জন করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আপনার সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশকে শান্তিবাদী দেশ হিসেবে পরিনত করেছেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে সহায়তা ও নারীকল্যাণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন, যা আপনাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, আত্মপ্রত্যয় ও দূরদর্শিতার কারণে আপনি এখন বিশ্ব নেত্রী। অশুভ শক্তির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করেই আপনি লক্ষ্যের দিকে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এবং উন্নয়নের সবক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির শত বাধার মুখে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা নদীর বুকে পাঁচ কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ সেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার দূরদর্শিতায় ২০১৫ সালের ৭ মে বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির মধ্য দিয়ে  দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় একটি যুগান্তকারী ঘটনা। আপনার শাসনামলে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে Blue Economy। বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আপনার নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধীদের বিচার হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে জাতি কলংকের কালিমামুক্ত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আপনি। এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার সকল শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩তম, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মাথাপিছু আয় ২,০৬৪ মার্কিন ডলার (ঢাকা ট্রিবিউন,১১ নভেম্বর,২০২০)। সরকারি-বেসরকারী চাকুরীজীবী সহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারনেই রিক্সাওয়ালা, দিনমজুরসহ সকল স্তরের  মানুষের  জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরেও বৃদ্ধ মা-বাবা, স্নেহের সন্তানের জন্য দেশী-বিদেশী নানাপ্রকার সুস্বাদু ফলসহ নানা বিলাসী দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করার সক্ষমতা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ক্রয় করে বিধায় দেশী-বিদেশী ফলসমূহ শহরের অভিজাত এলাকার কাঁচেঘেরা দোকান ছাড়াও রাজধানীর অলিগলিতে, গ্রামের হাট-বাজারে রিক্সা-ভ্যানেও বিক্রয় হচ্ছে, যা চোখে পরার মত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে  নারকীয় ঢাকার পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মত পরিস্থিতি অসীম ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য  সবসময় প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।

আপনার সঠিক নির্দেশনায় এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীকে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম।

কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যর অন্যতম কারণ বর্তমান সরকারের পরপর দুই মেয়াদে সারের দাম চার দফায় কমানো হয়। ফলে সার কেনা কৃষকের জন্য সহজ হয়ে যায়। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেচের পানির ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয় এবং সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষকের মাঝে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। যুগান্তকারী এসব পদক্ষেপের ফলে কৃষিতে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য।

সরকার কৃষকদের সম্ভাব্য সব রকম উপকরণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবর্তিত কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দেশে ও বিদেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের অনুসরণে ভারত সরকার কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকরণ ও কৃষকের সহায়তায় ৫০ শতাংশ এবং হাওর অঞ্চলে ৭০% ভর্তুকিতে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টরসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আউশে প্রণোদনা প্যাকেজও অব্যাহত আছে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশ গুণ। এষ্ট্রোবেরী, কমলা, মালটা, ড্রাগন ফল, কাজু বাদাম, ইত্যাদি বিদেশী ফলের চাষ বাংলাদেশে হচ্ছে। ফলে এই সকল সুস্বাদু ফল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে। দুই যুগ আগেও বাংলাদেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি অর্ধেক এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। সরকারের যুগোপোযোগী পরিকল্পনা, পরিশ্রমী কৃষক এবং মেধাবী কৃষি বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণবিদদের যৌথ প্রয়াসেই এ সাফল্য।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টর প্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি। ধান ধরে হিসাব করলে তা ৬ টন। তাছাড়া হেক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বে গড় ৫ দশমিক ১২ টন। বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। খাদ্যশস্যে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চীন ও ব্রাজিল। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করায় শীতকালীন সবজি সারাবছর উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৯ সালের পেঁয়াজ সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে সংকট মোকাবেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এভাবেই আপনার নেতৃত্বে প্রতিটি সংকট মোকাবেলায় সরকার সফল হচ্ছে।

২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটকালে ‘ডব্লিউএফপি’ অনুমান করে বলেছে, করোনা প্রতিরোধে লকডাউনের কারণে শুধু শিল্প নয়, কৃষিতেও উৎপাদন কম হবে, ফলে বিশ্বে ৩ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে। বাংলাদেশে কৃষির ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ডব্লিউএফপিএর ভবিষ্যত বানী ভুল প্রমাণিত করে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনি ঘোষণা করেছেন, ‘করোনা ও বন্যা যাই হোক না কেন, বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হবে না’। বাংলাদেশের কৃষিতে আপনার কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ইতিমধ্যে আপনি সারাবিশ্বে  প্রান্তিক, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, পরিণত হয়েছেন হত দরিদ্র, বঞ্চিত মানুষের একক নেতায়। আর এভাবেই নিজেকে বিশ্ব নেতা হিসেবে আলোকিত করেছেন। জার্মানির আঙ্গেলা মের্কেল বা নিউজিল্যান্ডের জাসিন্ডা আরডার্ন যেমন বিশ্বে প্রশংসিত নেতা। কিন্তু উন্নত ওই দেশগুলোর জনসংখ্যা এতো কম যে,  সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য তাদের এতো বেগ পেতে হয় না। বাংলাদেশ বহুল সংকটের জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও, আপনি সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অদম্য গতিতে, পরিনত হয়েছেন ‘সংকট মোকাবিলা’র ‘রোল মডেল’এ। বাংলাদেশ এরই মাঝে আপনার নির্দেশনায় যে উচ্চতায় এসেছে, তা এক অসম্ভব সাফল্য, যা অনেক শাসকের কাছেই অকল্পনীয় ও ঈর্ষণীয়। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এখন চমক। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপনি গ্রহণযোগ্য একজন পরামর্শকও বটে। বাংলাদেশের এ অনন্য অর্জনের সময়ই ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজানের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন তখন জঙ্গিদমনে আপনার গৃহীত পদক্ষেপ ‘জিরো টলারেন্স নীতি‘ সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্তপ্রতীক। আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নন, বিশ্বের অন্যতম প্রধাননেতা হিসেবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার ওপরে। ত্যাগে, দয়ায়-মায়ায়, ক্ষমায় ও সাহসের মহিমায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি আজ বিশ্বের এক অপার বিস্ময়।

চলবে…