মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব শান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পুরস্কার দেয়া উচিত : জয়ন্ত আচার্য

177
Social Share

বাংলা টিভি ৭১ এর টক শোতে অংশে নিয়ে ভিনিউজের সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য জয়ন্ত আচার্য বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২৩ মে জুলিও কুড়ি পুরুস্কার পান। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু থেকে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভূত্থানের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতিকে অত:পর নিপিরিত একটি জাতিকে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশটি স্বাধীন হয়।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তিনি নিপিরিত বাঙ্গালী জাতির মুক্তির জন্য একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন।যে সংবিধান এদেশের গরীব, দু:খী মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার জন্য তৈরী করেছিলেন।তিনি এই সংবিধানে যে পররাষ্ট্রনীতি প্রবর্তিত করেছিলেন তা হলো ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়।’ তিনি শুরু এই দেশটা গঠনের জন্যই উদ্যোগী হলেন না, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহন করেন। আর এই কারনে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টােবর তাঁকে বিশ্ব জুলিও কুড়ি পুরুস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।
বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুড়ি পুরুস্কার পাওয়ার কারণ ছিল, এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য মাত্র ৯ মাসে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলো। আর তখনকার বিশ্ব প্রেক্ষাপট ছিল দুইটি। একটি হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সারা বিশ্বের মুক্তিকামি শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তির আন্দোলন চলছিল । অপরদিকে আমেরিকার নেতৃত্বে চলছিল সাম্রাজ্যবাদী মনভাবাসপন্ন সমাজব্যবস্থা গড়ার প্রক্রিয়া।
আর বঙ্গবন্ধু মুলত: সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য শান্তির পথ বেছে নিয়েছিলেন।
১৯৭৩ সালের ২৩ মে যেদিন বঙ্গবন্ধুকে এই পুরুস্কার দেয়া হয় সেদিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনি শুধু বাঙ্গালি জাতির নেতা নন, আপনি হলেন বিশ্ব নেতা। আপনি বিশ্বের নিপিরিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন এই জন্য আপনাকে এই পুরুস্কার দেয়া হলো।’ এই পুরুস্কার পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
আজ ৪৮ বছরেও বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর পাওয়া জুলিও কুড়ি পুরুস্কারের আবেদন কমেনি।
বঙ্গবন্ধুকে ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট যে হত্যা করা হলো সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী শক্তি চায় নাই বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকুক। কারণ তৎকালীন পাকিস্তান, আমেরিকাসহ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি মনেকরেছিলো বঙ্গবন্ধু জুলিও কুড়ি পুরুস্কারের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে বিশ্ব নেতা হয়ে উঠেছিলেন। তারা মনে করেছিলেন তাঁকে হত্যা করলে জাতি গঠনের প্রচেষ্টাকে বন্ধ করা, বাংলাদেশ যেন বিশ্ব মডেল হয়ে না উঠতে পারে সেই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।
জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে ফিরে আসার মাধ্যমে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোল মডেল।বঙ্গবন্ধুর কন্যান নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে আবার গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনলেন।আর দেশে একের পর এক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখলেন। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই ভারতের সাথে ৩০ বছরের ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেন। আর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্বপ্নের পদ্মাসেতু যেটা আজ দৃশ্যমান, মেট্রোরেল, সমুদ্র বন্দর ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, কর্ণফুলি র্টাণেলসহ বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্বল্পউন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বরে কাছে রোড মডেল।
এছাড়া ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবাতার নেত্রী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই আমি মনে করি শেখ হাসিনাকেও বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক জুলিও কুড়ি পুরুস্কার ভুষিত করা।

অপরদিকে, বর্তমানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধে ইসরাইল যে অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনের নিরিহ জনগণকে হত্যা করছে বিশ্বের মধ্যে প্রথম আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দ্বা জানিয়েছেন।

সালাম মাহমুদের পরিচালনায় ও রোকন উদ্দিন পাঠান এর উপস্থাপনায় টকশোতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সম্পাদক এবিএম বায়েজীদ, ড. জাহাঙ্গীর আলম, ব্যারিষ্টার সাঈদ আবদুল্লাহ আল মামুন খান, আমাদের নতুন সময়ের সিনিয়র সাংবাদিক সমীরণ রায়।