মাঠে যখন নেমেছি এ যুদ্ধে জয়ী হয়েই  ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ – মশিউর রহমান শিহাব

Social Share

সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে ভয়াবহ করোনা মহামারী। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু পৃথিবীর আর কোথাও তো আম্পান নেই! পৃথিবীর কথা বাদ দিলাম সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার অধিকাংশ জেলাতেই এই আম্পান যাবে না। কোন কোন জেলায় আম্পানের সামান্য বাতাসও হয়ত পৌছাবে না।

আজ বড় অভিমানে লিখতে বাধ্য হচ্ছি- তাহলে সব বালাই কি এই দরিদ্র উপকূলবাসীর জন্য? ভাগ্যহীন এই বরগুনাবাসীর জন্য? একদিকে নদী ভাঙ্গন, ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের আতঙ্ক, জোয়ার জলোচ্ছাসের ভয়,  ফসলহানীর ঝুঁকি, তার উপরে আবার আম্পান! মহামারী করোনা তো আছেই!

দেশের এই দুঃসময়ে, এমন কোন প্রচেষ্টা, এমন কোনো পরিকল্পনা বাকি নেই যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ জনগণের জন্য করেন নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত নির্ঘুম কাটিয়ে সাধারণ জনগণের জন্য যেসব সহায়তা পাঠাচ্ছেন তারও একটি অংশ সুকৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে ভদ্রবেশী চোর-বাটপাররা। বসে নেই প্রধানমন্ত্রী। সকল বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। দেশব্যাপী সুপার সাইক্লোন আম্পান পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

প্রিয় বরগুনাবাসী, বিপদের সময় ভয় পেতে নেই। ভয়কে জয় করতে হয়। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি- জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় যখন মাঠে নেমেছি, এ যুদ্ধে জয়ী হয়েই ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ! খুব শিঘ্রই আরও কার্য্যকরী ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যথাযথ জরিপের মধ্য দিয়ে করোনা আর আম্পান দুর্গত বরগুনাবাসীর জন্য কাজে নামবো। আরও কাছ থেকে দেখবো অসহায় মানুষের জীবন-যন্ত্রনাকে।

অন্যান্য সেবামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে, নিয়ম করে প্রতিবছর ৫০টি হতদরিদ্র পরিবারকে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি এবং আমার প্রিয় সহধর্মিনী। এ বিষয়ে সে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে কথা দিয়েছে।  এ কাজটি আমরা আমৃত্যু করে যেতে চাই। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও পরামর্শের ভিত্তিতেই আমরা আমাদের এ প্রচেষ্টা শুরু করবো খুব শিঘ্রই।

প্রিয় এলাকাবাসী, আমরা একদিক থেকে অন্তত ভাগ্যবান! আমরা একজন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। বরগুনায় আমরা পেয়েছি দক্ষ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশান। পেয়েছি ডা. কামরুল আজাদ আর সুভাষ দত্তদের মত সাহসী কর্মবীরদের। তাই ভয়কে জয় করতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে করোনার পাশাপাশি আম্পানকে আমাদের মোকাবেলা করতেই হবে।

কোন সময়ক্ষেপন না করেই আমাদের চলে যেতে হবে সাইক্লোন শেল্টারে। একটা রাত কিংবা আরও একটি দিন না হয় বন্দিই থাকবো ওই সাইক্লোন শেল্টারে তবুও যেন ভয়াল আম্পান আমাদের কোন প্রাণহানী ঘটাতে না পারে। মাঠে যখন নেমেছি, করোনা আর আম্পান যতই ভয়াল হোক না কেন, পরম করুনাময় আল্লাহর রহমতে এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ!