মহালয়ার ভোরটা

530
Social Share

সত্যম রায়চৌধুরী:

মহালয়ার ভোরটা
আজ বড় বেশি বিপন্ন ।
রাত শেষে বিমর্ষ পৃথিবীর
মাথার ওপর
সাদাকালো আকাশটা জুড়ে
তবুও আগমনীর সুর।
মা আসছেন ।
শিউলি ঝরা শরতের গন্ধ নিয়ে
দেবীপক্ষের আয়োজন ।

মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে
স্বজন হারানোর যন্ত্রণা সয়ে
অবিরাম হত্যালীলার সাথে
পাঞ্জা লড়ে
বাঁহাতের উল্টো পিঠে
চোখের জল মুছে
আবার আনন্দে মাতবে মানুষ,
জীবন নিরবধি
থমকে দাঁড়ায় তবু
থেমে থাকেনা ।

মহামারীর প্রহর গুনতে গুনতে
বছর ঘুরে এলো আবার ।
মৃত্যু মিছিলের
বিষন্ন পথ ধরে
তুমি এলে আরও একবার ।
তাদের যাওয়া – তোমার আসা
কেন এলে তবু !!

কলকাতা-হাওড়া-হুগলি
বীরভূম-মুর্শিদাবাদ
অথবা দিল্লি-মুম্বাই
ব্যাঙ্গালোর কিম্বা উড়িষ্যায়
যে মানুষ গুলো
গতবছর পারেনি বলে
এবছরে তোমার পুজোয়
মেতে উঠবে ভেবেছিল,
তারা আজ স্মৃতির পাতায়।
তবুও ঢাকের শব্দ
বাজবে আবার
তবুও ষষ্ঠীর বোধন
সপ্তমীতে কলাবউ
অষ্টমীতে সন্ধিপুজোয়
একশো আট প্রদীপ ।

কত আলোর রোশনাই
পাড়ার প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে
মাইক্রোফোনে চটুল গান
নতুন জামা
বাড়িতে বাড়িতে হেঁশেলে
রকমারি পদ
কত আনন্দের উপকরণ,
তোমার চোখও অশ্রুহীন
তুমি নির্বিকার ।

মানুষ তবুও হাত পেতে আছে
তোমারই কাছে।
তারা হেরে যায়নি
তারা মেনে নেয়নি ।
তারা অপেক্ষায় আছে
নতুন এক
মুক্ত পৃথিবীর আশায়।
তাদের জন্য
শুধু তাদের জন্য
আরও একবার কি তোমার
অপরাহত খড়্গ ঝলসে
উঠবে না
প্রবল বিদ্রোহে ?
আরও একবার কি তুমি
জেগে উঠবে না
অসুরনাশিনী হয়ে ?

আলো-আঁধারের এই
বিষন্ন মহালয়ার ভোরে
দূরের কোনও বাড়ি থেকে
রেডিওতে ভেসে আসা
গানের সুরে
সেই প্রার্থনাই যেন
ছড়িয়ে পড়ছে
আকাশে বাতাসে,
“জাগো তুমি দুর্গা
জাগো দশপ্রহরণধারিনী
অভয়া শক্তি
বলপ্রদায়িনী তুমি জাগো…..”