মমতাই আগামীদিনে ভারতের মুখ: বাবুল সুপ্রিয়

55
Social Share

২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদের মূল দাবিদার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই মন্তব্য করেছেন সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

শনিবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন সাবেক বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়। আর এবার মমতার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস জ্ঞাপন করে তার ইঙ্গিত আগামী দিনে এই মমতাই ভারতের মুখ হতে চলেছেন।

সোমবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বাবুল বলেন ‘আমি চাই আমাদের দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একথা কেউই অস্বীকার করতে পারবেন না যে, মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী পদে দাবিদারদের মধ্যে অন্যতম।’

বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে বাবুলের মন্তব্য ‘দল পরিবর্তন করে আমি কোন ইতিহাস রচনা করিনি। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনের আগেও অন্য দলের নেতারা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেছিলেন। পুরনো নেতাদের মধ্যে অনেকের ভিতরই ক্ষোভ রয়েছে এবং বিজেপির উচিত তাদের ক্ষোভ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা।

এদিকে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবারই মমতা ব্যানার্জির সাথে সাক্ষাত করেন বিজেপি সাংসদ বাবুল। দলনেত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর স্বভাবতই আপ্লুত গায়ক-রাজনীতিক বাবুল।

এদিন বিকাল তিনটা নাগাদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজ্য সরকারের সচিবালয় ‘নবান্ন’এ আসেন বাবুল। সাথে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কিছু পরে নবান্নে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যনার্জিও। নবান্নে বাবুলকে উত্তরীয় পরিয়ে দলে স্বাগত জানান মমতা। প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মমতার সাথে কথা হয় বাবুলের।

সাক্ষাতের পর সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন ‘দিদির সাথে কথা বলে আমি খুশি। তার ভালবাসা, উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। ওরা যে দায়িত্ব দেবেন আমি তা পালন করবো। তবে কি দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই কারণ সেটা দিদির বিষয়। দিদি আমাকে বলেছেন মন খুলে গান করতে এবং এই পুজোতেই গান করতে বলেছেন।’

বাবুলের অভিমত, ‘আমার মনে হয় মন খুলে কাজ করতে পারবো, আর মন খুলে গান গাইতেও পারবো।’ কারণ হিসাবে তিনি বলেন অন্য জায়গা থেকে আমি এখানে এসেছি। কিন্তু দিদি ও অভিষেক আমাকে আপন করে নিয়েছেন।’

আগামী বুধবার লোকসভার স্পিকারের সাথে দেখা করে বিজেপি সাংসদের পদ থেকে বাবুল ইস্তফা দিতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এব্যাপারে তিনি নিজেই জানিয়েছেন বুধবারের স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছি, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবো।

গত ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে বাংলা থেকে চারজন জায়গা পেলেও বাদ পড়েন বাবুল সুপ্রিয়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একরাশ ক্ষোভ, হতাশা উগড়ে দেন। এরই মধ্যে গত ৩১ জুলাই নিজের মুখেই রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ঘোষণা দেন বাবুল। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন ‘চললাম, আলবিদা।’ তবে এই মূহুর্তে যে তিনি অন্য কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না সেটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তার কথায় সমাজ সেবার কাজ করতে হলে কোনও দলে থাকতে হয় না।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বাবুল সুপ্রিয়’এর ভবিষ্যত কোন পথে গড়াতে চলেছে? কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত শনিবার অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন আসলে রাজনীতির মূল স্রোতে থাকার কারণেই তৃণমূলে নাম লেখান বাবুল। কারণ পুরনো দল বিজেপির সাথে ক্রমশই তার দূরত্ব বাড়ছিল। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাথেও তার মতের পাথ্যর্ক ছিল।