মন দিলেই অন্যায়! প্রতারণা তবে কী? কাজল-টুইঙ্কলের বক্তব্যে বিতর্ক
ভিনিউজ ডট কম ডেস্ক
প্রেমে মন আগে, না কি শরীর? মন ছাড়া প্রেম যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনই শরীরী দেওয়া-নেওয়াও তীব্রতর করে সেই প্রেমকে, এগিয়ে দেয় কয়েক ধাপ। যুগের পর যুগ ধরে এটাই প্রেমের চেনা ছক। তবে সমাজ যত এগিয়েছে, ততই নানা রং মিশেছে এই সমীকরণে। এই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে একটি চর্চা। একটা সম্পর্কে কোনটার মূল্য বেশি— মন না কি শরীর? এদের মধ্যে কোনটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে সম্পর্ক ভাঙবে? টুইঙ্কল খন্না ও কাজলের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক ভেসে উঠেছে চারদিকে। দুই সঞ্চালিকা তথা অভিনেত্রীর দাবি, কোনও সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি এসে পড়লে তাকে মন দেওয়া যাবে না কোনও ভাবেই। তবে শরীর দিলে তাতে আপত্তি বা প্রতারণার কিছু দেখছেন না তাঁরা।
এখানেই ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন জাহ্নবী কপূর। ওই আলোচনায় উপস্থিত শ্রীদেবী-কন্যা অভিনেত্রীর মতে, প্রতারণার আবার শারীরিক-মানসিক কী? শরীর ও মন দুই-ই গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গী যদি শারীরিক ভাবেও প্রতারণা করেন, সেটাও ক্ষমার অযোগ্য। এই শুনে টুইঙ্কল ও কাজলের বক্তব্য, তাঁরা পঞ্চাশের কোঠায় বলেই আজ এই উপলব্ধি। বয়স বাড়লে জাহ্নবীও তাঁদের যুক্তি বুঝবেন। কাজল ও টুইঙ্কলকে সম্মতি জানিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আর এক তারকা— কর্ণ জোহর।
‘শরীর শরীর, তোমার মন নাই কুসুম?’ ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসে শশীর এই সংলাপ বা স্বগতোক্তি নিয়ে আলোচনা হয় বিভিন্ন প্রসঙ্গে। এই সংলাপেও শরীরের থেকে মনকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিল মানিকের গড়া চরিত্র শশী। কিন্তু এত সহজে কি ছাড়পত্র দেওয়া যায় সম্পর্কে শারীরিক প্রতারণাকে? শারীরিক সম্পর্কে কি শুধুই রক্তমাংসের শরীর উপস্থিত থাকে? ক্ষণিকের ভাললাগা বা টানও কি সেখানে থাকে না? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে।
যদিও দাবি করা হয়, নতুন প্রজন্ম মন ও শরীরের মাঝে গণ্ডি টানতে শিখেছে। প্রেমে যৌনতা থাকবেই, বা যৌনতায় প্রেম থাকতেই হবে— এমন কোনও নিয়ম নেই তাদের অভিধানে। ‘ফ্রেন্ড্স উইথ বেনিফিট্স’ থেকে ‘অ্যাসেক্সুয়াল প্রেম’— এমন নানাবিধ পোশাকি নাম রয়েছে তাদের অভিধানে। একই ভাবে বিবাহিত সম্পর্ক বা প্রেমের সম্পর্কের বাইরে শুধুই শরীরী সুখের সন্ধানও আজ বিচিত্র ঘটনা নয়। এটা কি অন্যায়, না কি আধুনিক সম্পর্কের আর এক ছকভাঙা রূপ? পুরনো এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন ক্যাটরিনা কইফ। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি প্রেমে থাকতে ভালবাসেন। তাই সম্পর্ক বা বিয়ের বহু বছর কেটে গেলেও, মন ও শরীর সমান প্রাধান্য পাবে। কোনও রকমের বিশ্বাসঘাতকতা তিনি সহ্য করবেন না।
-আনন্দ বাজার




