মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান দখল করে নিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থান দখল করে নিচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ওই এলাকায় নিজেদের সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে চলে যাওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার পতাকা উড়িয়ে টহল দিচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনী। মাত্র ক’দিন আগেও ওই অঞ্চলটি পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতো মার্কিন সেনারা। কিন্তু এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে উল্টে গেছে গোটা চিত্র। মার্কিন সেনাদের পরিবর্তে এখন সেখানকার নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনাদের হাতে।

বিভিন্ন সাজোয়া যান, ট্যাঙ্ক আর ভারী অস্ত্র নিয়ে সীমান্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছে রুশ সেনারা। তারা জানায়, সিরীয় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে, ওই এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করবে তারা।

সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর সেরিটস্কি বলেন, তুর্কি-সিরীয় সীমান্তে রুশ বাহিনী টহল শুরু করেছে। আমরা এখন আইন আল আরব শহরের আশপাশেই কাজ করবো। তবে পরবর্তীতে ঘাঁটি নির্মাণ করে পুরো সীমান্ত এলাকারই নিরাপত্তার বিধান করা হবে।

এর আগে সিরীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের সমর্থন দিয়ে আসছিল মার্কিন বাহিনী। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরাদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সিদ্ধান্ত হয় সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মোতায়েন করা হবে রুশ সেনা। কুর্দি বাহিনীকে ওই এলাকা থেকে সরানোর বিনিময়ে অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয় তুরস্ক।

আর এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণের গুটি মার্কিন বাহিনীর কাছ থেকে চলে যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার কাছে। এত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল রাশিয়া।

প্রতিরক্ষা এবং সামরিক বিশ্লেষক পাভেল ফেলগেনহৌর বলেন, এটা রাশিয়ার জন্য ওই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করার খুব বড় একটা সুযোগ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সম্পর্ক শুরু থেকেই খারাপ। এর আগে কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সেনারা একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি তুর্কি অভিযান শুরুর প্রাক্কালে কুর্দিদের ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় কুর্দিদের সঙ্গে এক রকম সমঝোতায় পৌঁছেছে রুশ এবং সিরীয় বাহিনী। তাই এটা পরিষ্কার যে, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে রুশ প্রভাব আরো বাড়লো।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর সমালোচক ইরানকে রাশিয়ার খুব কাছের মিত্র হিসেবেই ধরা হয়। এছাড়াও কাতারসহ বেশ কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশও রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করছে। এরমধ্যেই সিরীয়-তুর্কি সীমান্তে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।