মঞ্চে এলো ধর্ষণবিরোধী নাটক ‘আয়নাঘর’

Social Share

বাসার ড্রয়িং রুম। ফোন বাজছে। পরিবারের কর্তা ফোন ধরলেন। কিন্তু কেউ কথা বলে না। বিরক্তি নিয়ে কর্তা টেলিভিশন ছাড়লেন। এখনেও বিরক্তি। শুধু ধর্ষণের খবর। এভাবে শুরু হয় যে নাটকটির দৃশ্য শেষ পর্যন্ত সেটি রূপ নেয় একটি ধর্ষণবিরোধী নাটকে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেও ঢাকা মঞ্চে এলো আরেকটি নতুন নাটক ‘আয়নাঘর’। ধর্ষণবিরোধী নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা রেজানুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হলো। নাট্যদল ‘এথিক’ এর ৮ম প্রযোজনা এটি।
বাবা-মা, দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে চার জনের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা-মা’র কলহ চলছে। আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত এক মেয়ে আশ্রয় নেয় বাসায়। জানা যায়, মেয়েটি ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসে বাস ধর্মঘটের কারণে আটকা পড়েছিল। কতিপয় যুবক আশ্রয় দেওয়ার নাম করে ক্লাবঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নেওয়ার সময় মেয়েটি ঝাপ দিয়ে পালায়। পরিবারের মা মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো এবং আশ্রয় দেওয়া সিদ্ধান্ত নিলেও বাবা ঝামেলা এড়ানোর জন্য মেয়েটিকে বের করে দিতে চান। পরিবারের ছেলেটি বাসায় আসার পর ধর্ষিক মেয়েটি দেখে এই ছেলেটিই মূল ধর্ষণকারী। এবার পরিবারের বাবা-মা’র অবস্থান পাল্টে যায়। মা মনে করেন তার ছেলে এমন হতে পারে না; আর বাবা বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান, সত্য হলে তার পক্ষে দাঁড়াতে চান। মেয়েটি একটি লকেট দেখায় যেটি ধর্ষণের সময় মেয়েটির হাতে চলে গিয়েছি। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণে ছেলেটি আইনের হাত থেকে রক্ষা পেলেও শেষ পর্যন্ত পরিবারের সবাই ধর্ষণকারী ছেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ছেলের সঙ্গে থাকা পিস্তল নিয়ে মা-ই ছেলেটিতে গুলি করেন। এভাবেই ‘আয়নাঘর’ নাটকে সমসাময়িক সামাজিক-রাজনৈতিক সংকট, পরিবারের বন্ধনহীনতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়কে মঞ্চকুশলতায় তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট নাট্যকার-নির্দেশক রেজানুর রহমান।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেজানুর রহমান, মাহবুবা রেজানুর, কাজী প্যারিস, সুমন সোমা, সুবর্ণ হাসান, মন্টু সরদার, ইমতিয়াজ আসাদ, সবুজ রহমান, মনির কাঞ্চন ও নূর সাহা।
উদ্বোধনী মঞ্চায়নের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়োজীদ।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, জীবন-জীবিকার তাগিদে আমাদেরকে বাইরে আসতেই হচ্ছে। সুকুমারবৃত্তির চর্চাও হচ্ছে। নাটকও হচ্ছে। নাটক আমাদেরকে আমাদেরকে বাঁচতে শেখায়। প্রতিরোধ গড়তে শেখায়, আরও মানবিক হতে শেখায়। তাই এই দুর্যোগের মধ্যেও আমরা যতখানি সম্ভব সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে আরও মানবিক হয়ে উঠবো।
করোনা-পরিস্থিতির কারণে প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৩ অক্টোবর জাতীয় নাট্যশালা খোলার পর মঞ্চে আসা এটি তৃতীয় নতুন নাটক। এর আগে দুই সপ্তাহে দুইটি নাটক এসেছে ঢাকার মঞ্চে। গত শুক্রবার অনুস্বর মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘মূল্য অমূল্য’। তার আগের সপ্তাহে ‘লৌকিক অথবা অলৌকিক স্টিমার’ মঞ্চে এনেছে ঢাকা থিয়েটার।