মঙ্গলের প্রাচীন জলপথে অপ্রত্যাশিত এক ধাতু পেলেন বিজ্ঞানীরা! অতীতে প্রাণ ছিল লাল গ্রহে? আরও জোরালো দাবী

মঙ্গলের প্রাচীন জলপথে অপ্রত্যাশিত এক ধাতু পেলেন বিজ্ঞানীরা! অতীতে প্রাণ ছিল লাল গ্রহে? আরও জোরালো দাবী

ভিনিউজ : পৃথিবীর পড়শি লাল গ্রহটিকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। একাংশের বিশ্বাস, কোটি কোটি বছর আগে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বাঘ, সিংহ, বানর বা মানুষের মতো জটিল প্রাণ না-হলেও নেহাত কীট-পতঙ্গ কিংবা অণুজীবের অস্তিত্বের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। সেই ধারণাই আরও জোরালো করে দিল মঙ্গলগ্রহের মধ্যে এক ‘অপ্রত্যাশিত’ আবিষ্কার। গ্রহের প্রাচীন জলপথে নির্দিষ্ট একটি ধাতু প্রচুর পরিমাণে খুঁজে পাওয়া গেল। যা থেকে মিলছে প্রাণের ইঙ্গিত!

মঙ্গলের নির্দিষ্ট একটি অংশে প্রচুর পরিমাণে নিকেল খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর পড়শি গ্রহটিতে নিকেলের অস্তিত্ব কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয় একেবারেই। এর আগেও সেখানে নিকেলের খোঁজ মিলেছে। তবে কৌতূহলের বিষয় হল, এ বার যেখানে তা পাওয়া গিয়েছে, যে পরিমাণে এবং যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, সেটি অপ্রত্যাশিত। নিকেল মিলেছে মঙ্গলের নেরেতভা উপত্যকায়। এটি প্রাচীন একটি জলপথ, যা একসময় ‘জেজ়েরো ক্রেটার দ্বীপ’ অংশে জল বয়ে নিয়ে যেত। তাতেই বিজ্ঞানীরা কার্যত চমকে গিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এর আগে একসঙ্গে এমন উচ্চ ঘনত্বের নিকেল মঙ্গলের মূল শিলাস্তরে কখনও দেখা যায়নি। ফলে এই আবিষ্কার মঙ্গলের ওই অং‌শের রাসায়নিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন সূত্র প্রদান করছে।

 

মঙ্গলের নেরেতভা উপত্যকা দীর্ঘ কাল শুকনো হয়ে পড়ে আছে। একসময় এই উপত্যকার উপর দিয়ে কলকল করে বয়ে যেত স্রোত। তার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভার নেরেতভার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় এক বিশেষ ধরনের শিলাস্তরের খোঁজ পেয়েছিল। দীর্ঘ গবেষণার পর তাতেই ‘অপ্রত্যাশিত’ নিকেল মিলেছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর আগে মঙ্গলের যত জায়গায় নিকেলের হদিস মিলেছিল, সবই বাইরে থেকে আসা উল্কাপিণ্ডে নিহিত ছিল। তার বাইরে মঙ্গলের নিজস্ব মাটিতে মিশে থাকা নিকেলের অস্তিত্ব এই প্রথম জানা গিয়েছে। আমেরিকার ইন্ডিয়ানা প্রদেশের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হেনরি মানেলস্কি বলেছেন, ‘‘এর আগেও মঙ্গলে নিকেলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলপৃষ্ঠে পাওয়া লৌহ-নিকেল উল্কাপিণ্ডের বাইরে এটিই এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী শনাক্তকরণ।’’

সাধারণত, পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠে নিকেল খুব কম পরিমাণে থাকে। কারণ, গঠনকালেই এই ধাতুর অধিকাংশ চলে যায় গ্রহের কেন্দ্রস্থলে। মঙ্গলের পৃষ্ঠে বিপুল পরিমাণে, বিপুল ঘনত্বের নিকেল তাই বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। নাসার রোভার নেরেতভার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট শিলাস্তর খুঁজে পেয়েছিল, তার নাম দেওয়া হয় ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল’। আশপাশের উন্মুক্ত শিলাস্তরের মধ্যে এই বিশেষ অঞ্চলটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ছিল। তা ঘেঁটে বিজ্ঞানীরা চমকে দেওয়ার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলিই অণুজীবীয় কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পাইরাটের মতো লৌহ-সালফায়েড খনিজও এই অংশে পাওয়া গিয়েছে, যা সাধারণ ভাবে অণুজীবসমৃদ্ধ পরিবেশে থাকে। পাইরাইট একটি জৈব যৌগ।

নেরেতভা থেকে নাসার রোভার দ্বারা সংগৃহীত শিলার গঠনগত তথ্যগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন মানেলস্কিরা। এই পরীক্ষার সময়েই নিকেলের ‘অস্বাভাবিক’ এবং ‘অপ্রত্যাশিত’ রকমের শক্তিশালী সঙ্কেত আবিষ্কৃত হয়। মঙ্গলে যে একসময় অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল, এটা তার জোরালো ইঙ্গিত বলেই দাবি গবেষকদের। তা ছাড়া, লৌহ-সালফায়েড এবং নিকেলের মতো খনিজের উপস্থিতি মঙ্গলের ওই অংশে গতিশীল জলের অস্তিত্বকেও নিশ্চিত করছে। তেমনটাই মত বিজ্ঞানীদের একাংশের। নেরেতভা উপত্যকার শিলাগুলিতেও জলের স্রোতের কারণে পলির ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছে। গবেষকদের ধারণা, নিকেল হয়তো কোনও উল্কাপিণ্ডের সঙ্গেই পৃথিবীতে পৌঁছেছিল। পরে তা জলে দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর মধ্যে অণুজীব এবং অন্যান্য অনেক জীবের জন্য নিকেল অপরিহার্য মৌল। ফলে একেও মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্বের অন্যতম যুক্তি হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। মঙ্গলে নিকেলের উপস্থিতি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

-আনন্দবাজার

পূর্বের খবরবেইলি রোডে আগুন : রেস্টুরেন্টের ফটকে তালা দেওয়ায় আগুনে বেশি মৃত্যু হয়
পরবর্তি খবররেকর্ড গড়ে ভারতীয় চিত্রকর্ম বিক্রি হলো ১৬৭ কোটি রুপিতে
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!