মগজিশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব

1079
Social Share

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.):

মেয়ার অ্যামশেল রথচাইল্ড একজন ইহুদি জার্মানি নাগরিকের নাম। তিনি ১৭৪৩ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমা বিশ্বে বিশেষ করে আমেরিকার ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রভাবশালী হিসেবে আজকে সর্বত্র যে নামটি উচ্চারিত হয় সেটি হচ্ছে রথচাইল্ড ফ্যামিলি। ২০১৯ সালে ২৭ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ওয়াটকিন্স, আমেরিকার একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী একটা প্রবন্ধে লিখেছেন- ‘রথচাইল্ড পরিবার বিগত দুই শ’ বছর ধরে বিশ্বের মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে।  রথচাইল্ড পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মেয়ার অ্যামশেল রথচাইল্ড ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে লগ্নি টাকার ব্যবসা করতেন, অর্থাৎ সুদের ব্যবসা। এই ব্যবসায় তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশাল অর্থের মালিক হয়ে যান। তার প্রতি ঋণগ্রহীতাদের আনুগত্য ও তাকে অত্যন্ত সমীহ করে চলার দৃশ্য দেখে মেয়ার অ্যামশেলের মাথায় নতুন আইডিয়ার সৃষ্টি হয়। তার মনে হয় এই ব্যবসার আনুষ্ঠানিক আইনি ভিত্তি তৈরি করতে পারলে এবং তার বিস্তার রাষ্ট্র ও সরকার পর্যন্ত পৌঁছানো গেলে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে তার হাতে। এই চিন্তা থেকেই তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রথম ব্যাংক ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসা তৎসময়ের ক্ষমতাধর ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অ্যামশেল পাঁচ ছেলেকে দায়িত্ব দেন। নিজের নামে নাম বড় ছেলে অ্যামশেল মেয়ারকে নিজের সঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্টে রাখেন। দ্বিতীয় ছেলে সলোমান মেয়ারকে পাঠালেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। তৃতীয় ছেলে নাথান মেয়ারকে লন্ডন, চতুর্থ ছেলে কার্ল মেয়ারকে ইতালির নেপলে এবং পঞ্চম ছেলে জেমস জ্যাকবকে প্যারিসে পাঠালেন। আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের মন্ত্রী ছিলেন আলেকজান্ডার হ্যামিলটন, যিনি আবার রথচাইল্ড পরিবারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। হ্যামিলটনের সহযোগিতায় রথচাইল্ড ফ্যামিলি ১৭৯১ সালে আমেরিকাতে প্রথম ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ১৮১৬ সালে স্থাপন করে দ্বিতীয় ব্যাংক। ১৮২৩ সালে সারা বিশ্বের ক্যাথলিক চার্চের অর্থ ব্যবস্থাপনার পরিপূর্ণ দায়িত্ব নেয় রথচাইল্ড ফ্যামিলি। ১৯১৩ সালে রথচাইল্ড পরিবার আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ১৯১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর আমেরিকার আইন পরিষদ কংগ্রেস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আইন পাস করে দেয়। আমেরিকার মুদ্রা সরবরাহ এবং নীতিমালা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে রিজার্ভ ব্যাংক। যদিও প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগকৃত বোর্ড অব গভর্নর দ্বারা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক পরিচালিত হয়, কিন্তু রথচাইল্ড পরিবারের কর্তৃত্বের বাইরে কেউ কিছু করতে পারে না। অতি মূল্যবান খনিজ দ্রব্য ইউরেনিয়ামের যে রিজার্ভ বিশ্বব্যাপী রয়েছে তার শতকরা ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে রথচাইল্ড ফ্যামিলি। যার অর্থ পারমাণবিক শক্তির ওপর ওই পরিবারের প্রায় একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সাংবাদিক গ্যারি অ্যালেন একটি বই লিখেছেন যার শিরোনাম- None Dare Call it conspiracy। এই বইয়ের ৫১ পৃষ্ঠায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ক্ষমতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সামান্য কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরছি- ‘The Federal Reserve controls our money supply and interest rates, and thereby manipulates the entire economy, creating inflation or deflation, recession or boom and sending the stock market up or down at whim.’

Bangladesh Pratidinআমেরিকায় সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী যে থিঙ্কট্যাংক রয়েছে সেটির নাম কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশন, সংক্ষেপে সিএফআর হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। আমেরিকার বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে প্রধান অনুঘটকের কাজ করে সিআরএফ। গ্যারি অ্যালেনের উপরোক্ত বইয়ের ৮৮ পৃষ্ঠায় ওয়ার্ল্ড সুপার গভর্মেন্টের একটা চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। তাতে দেখা যায় সবার কেন্দ্রে বসে আছে সিআরএফ। তাতে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও কন্ট্রিবিউট করছে বড় সব মিডিয়া হাউস, বৃহৎ করপোরেশন, প্রভাবশালী সব ব্যাংক এবং থিঙ্কট্যাংক। এসব বহুমুখী করপোরেট হাউসের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আছে ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ, যার চূড়ায় রয়েছে রথচাইল্ড ফ্যামিলি। তার কারণেই ১৯৪৮ সাল থেকে আমেরিকার সব রাজনৈতিক দলের প্রশাসন ইসরায়েলকে অন্ধের মতো সমর্থন দিয়ে আসছে। ছোট দেশ ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। পৃথিবীজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় কোটি, যার মধ্যে ইসরায়েলের নাগরিক ৭০ লাখের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু শুধু মগজিশক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আমেরিকার মতো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আছে তারা এবং জাতিসংঘসহ সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারছে। আরেকটি উদাহরণ দিই। চেইম ওয়াইজম্যান ছিলেন ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট। ইসরায়েল রাষ্ট্র হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ব্রিটেনের নাগরিক এবং ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রের শিক্ষক ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের জন্য ধোঁয়াহীন গানপাউডার অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে, যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে এর ওপর। ওয়াইজম্যান ধোঁয়াহীন গানপাউডারের ফর্মুলা তৈরি করে দিলেন। তাতে অত্যন্ত খুশি হয়ে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর বললেন, মিস্টার ওয়াইজম্যান বলুন আপনি কী চান, যা চাইবেন সেটাই দেওয়া হবে। ওয়াইজম্যান জানালেন, আমি ইহুদি জাতির জন্য একটা স্বাধীন-সার্বভৌম ভূ-খ চাই। ব্রিটিশ সরকার এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। ১৯১৭ সালে এলো বেলফোর ঘোষণা, যার সূত্র ধরেই ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম। ওয়াইজম্যান প্রেসিডেন্ট হয়ে আইনস্টাইনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে বিশ্বসেরা সব শিক্ষক ও গবেষক নিয়ে এলেন। এর সমকক্ষ একটি বিশ্ববিদ্যালয় আরব বিশ্বে আজও নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হ্যারি লিপকন ইসরায়েলের জন্য পারমাণবিক বোমার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। ইসরায়েলের মোট লোকসংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ, যার শতকরা ২০ ভাগ আরব মুসলিম। প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে কিছুই নেই। অথচ আরব বিশ্বের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৩ কোটি, বিশ্বের চালিকাশক্তি প্রাকৃতিক সম্পদ খনিজ তেল-গ্যাসে ভরপুর। অথচ এরা ইসরায়েলের সামনে নিশ্চুপ এবং একের পর এক নতিস্বীকার করছে। ২০০০-২০১৯, এই সময়ে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইসরায়েলকে ১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। অথচ এই সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পাঁচটি আরব দেশ পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে অস্ত্র কিনেছে প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলারের, যার মধ্যে সৌদি আরব একাই কিনেছে ২৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র। তারপরও এসব রাজতন্ত্রকে পাহারা দিতে আমেরিকান সেনা লাগে। মগজিশক্তির উন্নতি ও বিকাশে রাজতন্ত্রগুলোর কোনো পদক্ষেপ নেই, ইচ্ছাও নেই। কারণ জনগণের ভিতরে মগজিশক্তির উত্থান ঘটলে রাজতন্ত্র টিকবে না। রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হবে। সুতরাং যা হওয়ার তাই হচ্ছে। জনবল, অর্থ ও অস্ত্রবল অঢেল পরিমাণ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের ঔদ্ধত্য এবং দখলদারিত্ব আরব রাষ্ট্রগুলোকে মেনে নিতে হচ্ছে। ইহুদিদের রোল মডেল আইনস্টাইন আর আরবদের রোল মডেল সালাউদ্দিন আইয়ুবী। সৌদি আরবের পতাকায় তলোয়ারের ছবি। দেখে মনে হতে পারে তলোয়ার দিয়েই সব জয় করা যাবে। মস্তিষ্কের ক্ষমতার কাছে আধুনিক অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী কীভাবে পরাজিত হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মস্তিষ্কের ক্ষমতার কাছে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজনৈতিক ঘটনাবলি তিনি যেভাবে চেয়েছেন ক্রমান্বয়ে সেভাবেই সব ঘটেছে। স্বাধীনতা অর্জনের ম্যাগনাকার্টা খ্যাত ছয় দফা বঙ্গবন্ধু উপযুক্ত সময়েই দিয়েছেন, আগেও না পরেও না। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের জুলুম, গণতন্ত্র হত্যা, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থার বহিঃপ্রকাশ এবং বাঙালিদের বিরুদ্ধে শোষণ ও বৈষম্য যখন চরমে উঠেছে তখনই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দিয়েছেন। ছয় দফার জালে পাকিস্তানি শাসকদের তিনি আটকিয়ে ফেলেছেন। ছয় দফা দেওয়ার পর আইয়ুব খানের প্রতিক্রিয়া হয়েছে ঠিক সেরকমই, যেরকম বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন।

বাঙালিদের বিরুদ্ধে চরম আঘাত করেছে আইয়ুব খান। আঘাতের প্রত্যাখ্যাত ঘুমিয়ে থাকা নিস্তেজ একটা জাতির মধ্যে চরম বিপ্লবী জাগরণ ঘটেছে এবং তার পথ ধরেই গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব খানের বিদায়, সত্তরের নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয়। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন, মেধার উন্মেষ ও বিকাশ না হলে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাই স্বাধীনতার পর অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেন। অবাধ মেধা বিকাশের পথকে খোলা রাখার জন্য চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিয়ে দিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর সব শেষ হয়ে গেল। পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসা দুই সামরিক শাসক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত সব কিছু বাতিল করে পশ্চাৎপদ ধর্মাশ্রয়ী অন্ধত্বে পূর্ণ রাষ্ট্রনীতি ও শিক্ষানীতি গ্রহণ করলেন। সামরিক শাসকদের তৈরি গ্যাঁড়াকল থেকে বাংলাদেশ আজও বের হতে পারছে না বলেই চরম ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিশাল ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং এখনো ঘটে চলেছে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচি তৈরিতে হেফাজতের পরামর্শ শুনতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী বাংলাদেশকে এমন জায়গায় আসতে হলো কেন, সেটি গভীরভাবে ভাবা দরকার। শিক্ষাঙ্গন আজ কলুষিত। কিন্তু উপাচার্য সম্পর্কে যা শোনা যায় তার এক-চতুর্থাংশ সত্য হলে বলতে হবে মহাসর্বনাশ হয়ে গেছে। শিক্ষাঙ্গনে রোল মডেল থাকল না। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্র ছিল চরম সাম্প্রদায়িক। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষাঙ্গনসহ বৃহত্তর সমাজ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আজকের বাংলাদেশের চিত্রটি অনেকটাই উল্টো। মানুষ লেখাপড়া শিখছে, কিন্তু যুক্তি নয়, অন্ধ বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। পাকিস্তানের সময় যে কয়টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, তার সবই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে। বাংলাদেশে দুই সামরিক শাসক এবং জামায়াত-বিএনপির শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। গত ১২ বছর ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেও কক্সবাজার, নাসিরনগর, রংপুর ও সুনামগঞ্জের মতো ঘটনা ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চরম সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উন্মাদনায় রাষ্ট্র শক্তিকে অসহায় মনে হয়েছে। এসবের বিরূপ প্রভাবে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত মেধার চর্চা ও বিকাশের পথ ক্রমান্বয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়ছে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠী মগজিশক্তিকে চরম শত্রু মনে করে। ১৯৭৫ সালের পর গত ৪৫ বছর বাংলাদেশে মগজিশক্তির উত্থান ও বিস্তারের পক্ষে কাজ হয়েছে খুবই কম। মানুষের মস্তিষ্ক তৈরি হয় মাতৃগর্ভে। তারপর বিকাশ হয় বিদ্যাপীঠে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা এবং সারা জীবন ধরে তার সঠিক চর্চার মাধ্যমে। মেধাচর্চা আর অর্থ সম্পদ প্রাপ্তির অনৈতিক প্রতিযোগিতা একসঙ্গে হয় না।

স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় আন্তর্জাতিকমানের একটা থিঙ্কট্যাংক বাংলাদেশে হয়নি। কোনো উদ্যোগ নেই। যুগে যুগে পেশিশক্তির উত্থান ঘটেছে, ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। কিন্তু শেষ বিচারে মগজিশক্তির জয় হয়েছে বলেই মানুষ আজ মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।  সুতরাং অতীত ও বর্তমানে যেমন দেখছি, তেমনি ভবিষ্যতেও মগজিশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে।  তাই মগজিশক্তির উত্থান ও বিস্তারে সরকারকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। মগজিশক্তির বিকাশ ও বর্ধন না  ঘটলে দৈত্য-দানবের দৌরাত্ম্য দেখতে হবে।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।