ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিতর্কে ওয়ার্কার্স পার্টি

মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম তুলতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি যে নামের তালিকা প্রস্তাব করেছে তার মধ্যে ৮৫শতাংশ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। ক্ষমতাসীন জোটের শরীক এ দলের প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সেখানে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. শাজাহান খান। বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিটির বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা বিষয়ে আলোচনা হয়। অনৈতিক প্রস্তাব বাতিলের জন্য প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

কমিটির সভাপতি শাহাজান খান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে  ওয়ার্কার্স পার্টি ৪২১ জনের নাম জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। বাকি ৮৫ ভাগই অমুক্তিযোদ্ধা। এই অবস্থায় তাদেরকে কেন মুক্তিযোদ্ধা বানতে হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখা চাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নাম রয়েছে চট্টগ্রামের মো. মিজানুর রহমানের। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মজিদ। গ্রাম-হাজিগাঁও, ডাকঘর-বটতলী, উপজেলা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম। তার জন্ম ১৯৮০ সালে। সে কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? ১৯৮০ সালে যার জন্ম তাকে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা বানাবো?’

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আলোচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর নাম, ঠিকানা এবং রেজিষ্ট্রেশন ইত্যাদি সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংগঠনগুলোকে নিবন্ধিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজাকারদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে আবারো চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলায় তালাবদ্ধ থাকা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স খুলে দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।