ভিয়েনা হামলা: সন্দেহভাজন জিহাদী সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দুকধারী নিজেই ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়
Social Share

একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর অস্ট্রিয়ার শহর ভিয়েনায় দফায় দফায় পুলিশে তল্লাশি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার এক বন্দুকধারী অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার প্রাণকেন্দ্রে চারজনকে গুলি করে হত্যা করে।

এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যাকে মূলত দায়ী করা হচ্ছে, সেই ২০-বছর বয়সী একজন জিহাদীকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে।

আগামীতে সম্ভাব্য যে কোনো হামলা ঠেকাতে অস্ট্রিয়ার রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অস্ট্রিয়ান পুলিশ সম্ভাব্য যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে।

তবে কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস এই বন্দুকধারী একাই হামলাটি পরিচালনা করেছে।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন নারী জার্মানীর নাগরিক।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার বলছেন, দ্বিতীয় কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল এমন কোনো ইঙ্গিত এখনও মেলেনি, যদিও সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

পুলিশ এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোনে ধারণ করা ঘটনার প্রায় ২০ হাজার ভিডিও দেখেছে।

তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী তাদের অনলাইন প্রপাগান্ডা চ্যানেলে দাবি করেছে যে এই হামলার সাথে তারা জড়িত। কিন্তু এর পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সোমবার ভিয়েনার স্থানীয় সময় রাত ৮ টার দিকে শুরু হয় এই হামলা।

ভিয়েনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে

প্রায় ৯ মিনিট ধরে চলে গোলাগুলি।

বন্দুকধারী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়েনায় হামলাকারী বন্দুকধারীকে একজন ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কুজতিম ফেজুলাই। আইএস-এ যোগ দেয়ার জন্য সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবে এর ২২ মাস পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তুলনামূলক কম বয়সীদের প্রতি ক্ষমা করার কিছু নিয়মনীতি কারণে এবং উগ্র ইসলামপন্থী চিন্তা থেকে সরে আসার কথা বলায় তাকে তখন ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

মূলত এই ব্যক্তি নর্থ মেসিডোনিয়া থেকে অস্টিয়ায় আসেন। অস্ট্রিয়া ও মেসিডোনিয়া – এই দুটো দেশেরই নাগরিকত্ব আছে তার।

এই ঘটনার আগে তিনি বন্দুকসহ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন।

পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।

ভারী অস্ত্র ছাড়াও ভুয়া বিস্ফোরক বেল্টও পরা ছিলেন এই ব্যক্তি।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেহামার জানান যে ছোট কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি ছোড়েন ওই ব্যক্তি।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অস্ট্রিয়া নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করার ঘণ্টাখানেক আগেই এই হামলা হয়। মধ্যরাতের আগে অনেক মানুষ খানিকটা আনন্দ করতে বাইরে বের হয়েছিলেন।

এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভিয়েনা, সেন্ট পোলেন এবং লিনজে।

এছাড়া, ১৮ ও ২৪ বছর বয়সী দুই সুইস নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সও সম্প্রতি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে।

গত মাসে ফ্রান্সে ইতিহাসের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাতির শিরশ্ছেদ করে এক ব্যক্তি।

এরপর উগ্র ইসলামপন্থার বিরুদ্ধে ফ্রান্স কড়া পদক্ষেপ নেয়ার মধ্যেই তিউনিসিয়ার এক ব্যক্তি ফ্রান্সের শহর নিসে তিনজনকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে।

এর আগে ২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেটের হয়ে একটি হামলায় বন্দুকধারীরা প্যারিসে ১৩০ জনকে মেরে ফেলে।

ইউরোপের সাড়া

ভিয়েনায় তিনদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

দেশটিতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঘরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং বুধবার স্কুলে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।

যুক্তরাজ্যেও সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে এবং সেখানে কর্তৃপক্ষ সতকর্তার মাত্রা বাড়িয়েছে।

ইউরোপে আরও কিছু হামলার ঘটনা

অক্টোবর, ২০১৯: প্যারিসের পুলিশ সদর সপ্তরে তিনজন অফিসার ও একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়।

মার্চ, ২০১৯: নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট শহরে এক বন্দুকধারী চার জনকে হত্যা করেন এবং এই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

অগাস্ট, ২০১৭: বার্সেলোনায় একটি ভ্যান তুলে দেয়া হয় মানুষের ওপর। কাতালানের আরেক শহর ক্যামব্রিলসেও ১৬ জনকে মেরে ফেলা হয়, আর আরো ১৩০ জন আহত হন।

মে, ২০১৭: ইংল্যান্ডে একটি কনসার্টে বোমা হামলায় ২২ জন মারা যান। এরপর জুনেই একটি ভ্যান দিয়ে আক্রমন করে ও ছুরিকাঘাতে ৮ জনকে মেরে ফেলা হয়।

জুলাই, ২০১৬: বাসিল দিবস উদযাপনের সময় ফ্রান্সের নিসে এক বন্দুকধারী একটি বড় লরি মানুষের ওপর তুলে দেয়। এতে মারা যান ৮৬ জন। ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে।