ভিন্নমত নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য সরকার অমানবিক নির্যাতন করছে: ফখরুল

59
Social Share

সরকারের পেছনে ভয়ংকর একটি শক্তি অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে বাংলাশে ছাত্র ফোরাম ও উত্তর ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আজকের পত্রিকা খুললে দেখবেন যে, কাটুনিস্ট কিশোর জেল থেকে বেরিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেই বিবৃতিতে বুঝা যায় যে, ভয়ংকর একটা শক্তি পেছনে থেকে, এই সরকারের আড়ালে থেকে, সরকার স্ক্রিন তৈরি করেছে, সেই ক্রিনে থেকে যারাই এই সরকারের বিরোধিতা করছে, যারাই রাষ্ট্র প্রধানের বিরোধিতা করছে, যারাই সরকার প্রধানের বিরোধিতা করছে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য অমানবিক নির্যাতন করছে।”

ফখরুল বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন যে, মুশতাক আহমেদ শুধুমাত্র লেখার অপরাধে আর কিশোর শুধুমাত্র কার্টুন আঁকার অপরাধে নির্মম অত্যাচার করে ছয়মাস আটক করে রাখা হয়েছে। এরা তো দুই‘জন শুধু ছয় মাস তাদের কথা বলা যায়..। গতকালই একজন মহিলা এসেছিলেন আমার কাছে, তিনি একজন রিটায়ার্ড মেজর মোরসালীন তার স্ত্রী-একবছর ধরে এই মোরসালীন আটক আছে জেলের মধ্যে। তার কোনো খবর বাইরে দিতে চায় না। কারণ একটাই তিনি (মোরসালীন) লিখতে, তার লেখার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। আজকে পত্রিকাতে আছে যে, কত মানুষকে, শিশুকে সাত বছরের শিশু, কত বয়োঃজ্যেষ্ঠদের তুলে নিয়ে গেছে, জেলে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার অপরা্ধে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আজকে স্বাধীনতার চেতনা সম্পূর্ণ ভুলন্ঠিত, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করেছে, এই রাষ্ট্রকে একটা দলীয়করণের রাষ্ট্র, একটা অকার্য্কর রাষ্ট্র, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।”

তিনি বলেন, ‘‘আজকে বাংলাদেশকে এরা একেবারে ঘাঘারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের আত্মাকে ধবংস করে দি্য়েছে, সোল অব বাংলাদেশ, গণতন্ত্র যেটা আমাদের আত্ম সেই আত্মাকে ধবংস করে দিয়েছে।এরা শুধু মাত্র নিজেদের ক্ষমতা, দাম্ভিকতা, আত্মভরিতা আর দুর্নীতির বৃত্ত তৈরি করার জন্য তারা গোটা জাতিকে তারা ধবংস করে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, ‘‘এই দেশে বারে বারে এধরনের স্বৈরাচার এসেছে, এদেশে বার বার যেমন মগ-দুস্যরা, বর্গীরা এসেছে, পশ্চিম থেকে বৃটিশরা এসেছে দখল করে নিয়েছে, তেমনি এদেশেরই তরুন দামালেরা, যুবকরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনে অস্ত্র নিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে সেই অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের তরুণেরা, দামাল ছেলেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে। সেই কথা মনে আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে।”

ফখরুল বলেন. ‘‘আজকে যদি আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই, আমরা যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের জন্য কারাবন্দি হয়ে আছেন তাকে বের করে আনতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমান যাকে সামনে রেখে আমরা পথ এগুতে চাচ্ছি তাকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, আমাদের ৩৫ লক্ষ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করাতে চাই, প্রতিদিন আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে তাদের যদি জেল থেকে মুক্ত করতে চাই আমাদেরকে অবশ্যই তরুনদেরকে, যুবকদেরকে তাদেরকেই সামনে আসতে হবে। সব সময় তরুনরা সব কিছু পাল্টিয়ে দিয়েছে, পরিবর্তন এনেছে।”

বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ছাত্র দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।