ভাস্কর্য বিরোধী উগ্র গোষ্ঠীকে প্রতিহত করা হবে

3
Social Share

আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী উগ্র মৌলবাদীদের প্রতিহত করা হবে। যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের পেতাত্মা রাজাকারের প্রজন্ম উগ্র মৌলবাদীদের বিতাড়িত করতে না পারবো, ততোদিন পর্যন্ত আমরা মুক্তিযুদ্ধের সন্তানরা একত্রিত হয়ে রাজপথে থাকবো, সারাদেশে মাঠে থাকবো।

রবিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবলীগ আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, সাম্প্রদায়িক, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক কুষ্টিয়ায় রাতের অন্ধকারে জাতির পিতার নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙ্গার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

যুবলীগের সমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে পাড়া, মহল্লায়, মসজিদ, মাদ্রাসায় বসে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কোনো অপতত্পরতায় লিপ্ত হয় কি না সে দিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুলিস্তান, নুর হোসেন স্কয়ার, পুরানা পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। একই সময়ে সারাদেশে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী যুবলীগ।

মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, এ দেশ থেকে উগ্র মৌলবাদী শক্তিকে বিলুপ্ত করা হবে। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে যুব সমাজ যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলেন, ঠিক তেমনি আজ আবারো যুব সমাজ এখানে একত্রিত হয়েছে উগ্র মৌলবাদ, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও খালেদা জিয়া-নিজামিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে। আজ থেকে যুব সমাজকে শপথ গ্রহণ করতে হবে, বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া যেখানে উগ্র মৌলবাদীদের পাব সেখানে তাদের প্রতিহত করবো। তাদের এতো বড় স্পর্ধা আমাদের জাতির অস্তিত্বে হাত দিয়েছে, জাতির পিতাকে অপমান করেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উগ্র মৌলবাদী শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত করবো।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, যাদের নির্দেশে আমাদের অস্তিত্বে হাত দেওয়া হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতরা যত বড় মাপের মানুষ হোক তাদের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পেতাত্মারা এখনো জীবিত আছেন। সারাদেশে যত ভাস্কর্য আছে তা নিয়ে কখনো কোন কথা বলা হয়নি। আজকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এতো আন্দোলন কেন? এদের ইন্ধনদাতা কে? এদের ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জামায়াত-শিবির। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে রাজাকারের প্রজন্ম উগ্র মৌলবাদীদের চিরতরে বিতাড়িত করতে যুবলীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে মাঠে থাকবেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মো. রফিকুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, মো. রফিকুল ইসলাম সৈকত জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ, জহির উদ্দিন খসরু, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক শামসুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা, উত্তর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজাসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য-বাংলাদেশের ঐতিহ্য। বাংলাদেশের অপর নাম-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে যে উগ্র মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, পৃথিবীর সকল মুসলিম দেশে ইতিহাস ও সৌন্দর্যের ধারক হিসেবে ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্য যেকোনো দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। যে জাতি তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে যতবেশি চর্চা করে, সেই জাতির মননশীলতা আরো বেশি সমৃদ্ধ হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বাংলাদেশের কলিজা, এদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণ। এদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আছে, চিরকালই থাকবে। থাকবে না কোন পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে যুবলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী সেই উন্নয়নের পথকে আরো মসৃণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজপথে থাকবে। কোন অপশক্তিই শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে পারবে না।