ভাস্কর্য বিরোধীতাকারীরা জামাত-বিএনপির

3
Social Share

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ সভাপতি ও ১৪ দল নেতা হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক মোল্লারা আলেম, ওলামা ধর্মীয় নেতা না। তারা ফতোয়া দেয়ার বৈধ অধিকারিও না। প্রকৃত অর্থে তারা জামাত-বিএনপির ভাড়াটে খেলোয়াড়।

এই রাজনৈতিক মোল্লারা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের মনগড়া অপব্যাখা দেয়। তারাই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মকে স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছিল, এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র-সংবিধান-জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে।

শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদের দেশব্যাপি ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তি ও রাজনৈতিক মোল্লাদের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ করার হুমকি, নারী বিদ্বেষী প্রচারনা, মুক্তিযুদ্ধ-সংবিধান-জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সভ্যতা বিরোধী কর্মকান্ড দমন করা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।

ঢাকা মহানগর জাসদ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনু এসব কথ্ াবলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাসদ কার্যালয়ের সামনে মীর হোসাই আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি নুরুল আখতার, সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল প্রমুখ।

ইনু বলেন, রাজনৈতিক মোল্লারা বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদ- মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদের প্রজনন ক্ষেত্র বিপদজনক দেশ হিসাবে চিন্থিত করে সারা দুনিয়া থেকে একঘোরে করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশে দেশে অভিবাসী বাংলাদেশী মুসলমানদের বিপদে ফেলে দিচ্ছে।

ধর্মব্যবসায়ী, রাজনৈতিক মোল্লাদের এক চুল ছাড় না দিয়ে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মোল্লাদের অশান্তি সৃষ্টির রাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় মানুষ ও রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ইনু বলেন, সাম্প্রদায়িক গোষ্টী দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-জীবনবোধ-আইন-নীতি-সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এসব রাজনৈতিক মোল্লারা উপরন্তু অপরাপর ধর্মাবলম্বীদের পুজার উদ্দেশ্যে প্রতিমা স্থাপনকেও “স্পষ্ট শিরক” বলার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার মতো এবং ধর্মগুলোর মধ্যে তুলনা করার মতো গর্হিত অপরাধ করেছে। এদের এ নিন্দনীয় ও গর্হিত অপরাধ বাংলাদেশের সংবিধানে ঘোষিত মৌলনীতিমালার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, “যারা বলছেন মূর্তি ও ভাস্কর্য এক নয়, তারা ভুল বলছেন” বলে এসব রাজনৈতিক মোল্লারা যে বক্তব্য দিয়েছে তা অশিক্ষাপ্রসূত। প্রতিমা/মূর্তি সঙ্গে রয়েছে পারলৌকিকতার সম্পর্ক আর ভাস্কর্যে সঙ্গে রয়েছে ইহজাগতিকতার সম্পর্ক। তার মানে এই নয় যে প্রতিমা নাজায়েজ আর ভাস্কর্য জায়েজ- আমরা মনে করি এখানে কোন ধরনে তুলনা গ্রহনযোগ্য নয়।

নেতৃবৃন্দ বলে, আলেম নামধারী বিএনপি-জামাত-জঙ্গির এসব ভাড়াটে খেলোয়াড় রাজনৈতিক মোল্লারা এমনকি আল্লাহ্, নবী ও কোরান শরিফের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। পবিত্র কোরানের সুরা কাফিরুনের রুকু ১(এক)-এর আয়াত ৬(ছয়)-এ পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ বা ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার’।

জাসদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন বিএনপি-জামাত-জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড় এসব রাজনৈতিক মোল্লাদের বিবৃতির নেতৃত্ব দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী; আর স্বাক্ষরদাতাদের প্রায় সকলে হেফাজত ও শাসনতন্ত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক মোল্লা। এরা প্রকৃত আলেম-ওলামা নয়; বরং এরা রাজনৈতিক দলের নেতা, এদের মার্কা আছে, এরা নির্বাচন করে এবং এরা বিএনপি-জামাত-জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড়। এদের বিবৃতির ভাষ্য বেআইনী ও উস্কানীমূলক এবং সংবিধান ও রাস্ট্র বিরোধী, সুতরাং শাস্তিযোগ্য। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিএনপি-জামাত-জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড় এ সব রাজনৈতিক মোল্লাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দাবি করেন।