ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন সবার জন্য নয়, দুর্বল শরীর, অ্যালার্জি থাকলে নেওয়া যাবে না

19
Social Share

ভারত বায়োটেকের কোভ্যক্সিন টিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক হচ্ছে।প্রথমে টিকার ট্রায়াল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, পরে টিকার সুরক্ষা নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল।এসব কিছুর মাঝেও হায়দরাবাদের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছিল, টিকার ২০০% স্বচ্ছ ট্রায়াল হয়েছে। টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নই উঠে না।তবে এবার ভারত বায়োটেক বিস্তারিত একটি তথ্যপত্র বা ফ্যাক্টশিট সামনে এনে জানিয়েছে, এই টিকা সকলের শরীরে নাও সইতে পারে।কারা কারা টিকা নিতে পারবেন এবং কারা পারবেন না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

শুরু হয়েছে করোনার টিকাকরণ। টিকাকরণের পর অনেকের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এরই মধ্যে কোভ্যাক্সিনের প্রস্তুতকারী সংস্থা ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হল, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং ওষুধ চলছে বা যাঁদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাঁদের এই ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

টিকা নিয়ে কী বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার? এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাঁরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। কিন্তু এই টিকা তাঁদের শরীরে কম কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ক্যানসার আক্রান্ত যাঁদের কেমোথেরাপি চলছে বা এইচআইভি পজিটিভদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।

দু’জনের মৃত্যু অস্বস্তিতে কেন্দ্র শনিবার দেশজুড়ে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে টিকা নেওয়ার পর ৫৮০ জনের শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দু’জনের মৃত্যু অস্বস্তিতে ফেলেছে সরকারকে। তবে এই মৃত্যুর সঙ্গে ভ্যাকসিনের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে কেন্দ্র।

কী জানাচ্ছে ভারত বায়োটেক? এই পরিস্থিতিতে ভারত বায়োটেকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁদের অ্যালার্জির সমস্যা বা জ্বর আছে, কোনও রক্তক্ষরণের সমস্যা আছে, তাঁরা যেন এই টিকা না নেন। গর্ভবতী, গুরুতরভাবে অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা শরীরে কোনও অন্য সমস্যা আছে এমন ব্যক্তির এই টিকা নেওয়া উচিত নয়। যাঁরা এই ভ্যাকসিন নেবে, তাঁদের বিভিন্ন অ্যালার্জির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, গলা ও মুখ ফোলা, সারা শরীরে অ্যালার্জি এবং দুর্বলতার মতো সমস্যা হতে পারে।

ভ্যাকসিন এলেও করোনার সমস্ত বিধি-নিষেধ পালন করতে হবে এদিকে টিকাকরণের পর ৩০ মিনিট গ্রহীতাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় টিকাকরণ কেন্দ্রে। এছাড়াও টিকাকরণের পর অন্তত ৩ মাস গ্রহীতাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ে কোনও গুরুতর সমস্যা হলে সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করলে তারা সাহায্য করবে। তবে ভ্যাকসিন এলেও করোনার সমস্ত বিধি-নিষেধ পালন করতে হবে, এমনটাও উল্লেখ করছে ভারত বায়োটেক।