ভারত-পাকিস্তান বিরোধ তুঙ্গে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপড়েন চলছে। তবে চলতি বছর দেশ দুটির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল কাশ্মীর সীমান্তে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। কাশ্মীরে গুলি নিক্ষেপের জন্য একে অন্যকে দায়ী করেছে। উভয় দেশের দাবি, প্রতিপক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে হামলা চালিয়েছে।

২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে  যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হয়। এরপর থেকেই এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। এতে প্রাণ দিচ্ছেন উভয় দেশের সাধারণ মানুষ ও সেনা সদস্যরা। এরই মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রধর এই প্রতিবেশী দুটি যুদ্ধ করেছে। কাশ্মীর নিয়ে একটি সংঘাতকে সীমাবদ্ধ করেছে।

চলতি বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একটি পরিপূর্ণ যুদ্ধের খুব কাছ থেকে ফিরে আসে তারা। ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে নিহত হন ভারতের ৪০ জন সেনাসদস্য। এর জবাবে ভারতের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায় ভারত। এদিকে পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদ ওই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে।

আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর এতদিন স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত। ৫ই আগস্ট তা বাতিল করে ভারত। এর কড়া প্রতিবাদ ওঠে পাকিস্তান থেকে। এ সময় থেকেই ভারতের এমন পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তদবির করে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

দিল্লি ও ইসলামাবাদ উভয়েই পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। তবে দুই দেশ এর অংশবিশেষ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। চলতি বছর এ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে সীমান্তে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি। সর্বশেষ রবিবার কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় তিতওয়াল এবং ট্যাঙহারে ভারি গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও ভারত উভয়দেশই আলাদা আলাদাভাবে এ ঘটনাকে বর্ণনা করছে।

ভারত অভিযোগ করছে, পাকিস্তান বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করেছে। এতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছেন, জঙ্গিদের টার্গেট করে প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত। এতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। তাদের তিনটি ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ বছর পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে উসকানি ছাড়াই ২০০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে নিহত হয়েছেন ২১ ভারতীয়।

এদিকে, পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় সেনারা ২০১৯ সালে সীমান্তজুড়ে গুলি করে হত্যা করেছে কমপক্ষে ৪৫ জনকে। এর মধ্যে ১৪ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।