ভারত কখনো বাংলাদেশের সঙ্গে দাদাগিরি দেখায় না

41
Social Share

ভারত আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো জোরালো সম্পর্ক গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান ‘ডিকাব টকে’ তিনি বলেন, ভারত কখনো বাংলাদেশের সঙ্গে ‘দাদাগিরি’ দেখায় না।

‘দাদাগিরি’ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের কাছে পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে আছে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আমরা কিভাবে বড় ভাইসুলভ আচরণ বা দাদাগিরি করতে পারি? সত্যি বলছি, ১৭ কোটি লোকের দেশ বাংলাদেশ। তাই এ ধরনের ভাবনার (দাদাগিরি দেখানো) কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিশেষ। ভারত সব সময় বাংলাদেশের জোরালো উন্নয়ন অংশীদার। দাদাগিরির ভাবনা কেন আসে, সে সম্পর্কে আমার (ভারতীয় হাইকমিশনার) কোনো ধারণা নেই।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের একটি অংশীদারির ভবিষ্যৎ দেখতে হবে। ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ ও ১৩০ কোটি মানুষের ভারত কিভাবে একটি অংশীদারির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, তা দেখতে হবে।’

ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন বক্তব্য দেন।

আগামী মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য সফরে অংশীদারির ভবিষ্যৎ ও দায়িত্ব বোধের বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ওই সফরটির পরিকল্পনা আছে।’ তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু সমঝোতার বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

জ্বালানি খাত, মানুষে মানুষে সহযোগিতা এবং আরো বড় পরিসরে রাজনৈতিক সম্পর্কে অংশীদারির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এসব বিষয়ে আলোচনা চলছে। আরো অনেক বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘শক্তিশালী, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও বিকাশমান বাংলাদেশ ভারতের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ। আপনাদের (বাংলাদেশের) উন্নয়ন আমাদের (ভারতের) জন্য ভালো। এ বিষয়ে কারো মনে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের গুরুত্ব নিয়ে ভারতে দ্বিদলীয় ঐকমত্য আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রতিটি সরকারের কাছেই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছেন।’

দোরাইস্বামী বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক থেকে উভয় পক্ষেরই লাভবান হতে হবে। আর ঠিক এটি করতেই আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

শিগগিরই তিস্তা চুক্তি সইয়ে সম্ভাবনা কম—এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি ভারতে এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য ছয় নদীর পানিবণ্টন নিয়ে অনেক দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে।’

বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশ অভিন্ন নদ-নদী মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমারের পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সইয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমার দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে। তবে এ চুক্তি সইয়ে সব অংশীদারের ঐকমত্য প্রয়োজন।’

সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্তে হত্যা কেউই চায় না। এ সমস্যা সমাধানে সীমান্তের দুই প্রান্তেই কাজ করার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে।’

ভারতে প্রবেশের জন্য কভিড ভ্যাকসিন নিতে হবে—এমন প্রচারণা নাকচ করে তিনি বলেন, ‘কভিড মুক্ত সনদ নিয়ে ভারতে যাওয়া যাবে। কবে নাগাদ পর্যটক ভিসা চালু করা যাবে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে এই পরিস্থিতিতেও প্রতি কর্মদিবসে বাংলাদেশে এক হাজার ৬০০ ভারতীয় ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মধ্য দিয়ে জেনোসাইড ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিষ্পত্তি হয়েছে—ইসলামাবাদের এমন দাবি নাকচ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জেনোসাইডের বিচার যেকোনো সময় হতে পারে। ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল।